প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রীর শাহরাস্তি সফর

প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রীর শাহরাস্তি সফর

ফন্ট সাইজ:

রাত পোহালেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকার মাটিতে পা রাখবেন। তার আগমনকে ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও জনদুর্ভোগের নানা সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশার কথাগুলো তুলে ধরতে মুখিয়ে রয়েছেন এ জনপদের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে সমবেত হবেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকালে সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর-৫ আসনের এমপি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও দলীয় নেতারা।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তার মন্ত্রণালয় থেকে সাত হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রস্তাব আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু পানি প্রবাহ সচল করার প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন উদ্যোগ। খাল খননের মাধ্যমে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের কথাও জানান তিনি। এ সফরকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে শাহরাস্তির ঐতিহাসিক খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচি। ১৯৭৭-৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন, প্রায় ৪৮ বছর পর সেই খালের পুনঃখনন উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন তারই পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার উয়ারুক এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।

সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচিকে নতুন গুরুত্ব দিচ্ছেন। খোর্দ্দ খালের পুনঃখনন ছিল এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর-৫ আসনের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডাকাতিয়া নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি, কৃষি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, নদীপাড়ে আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা, শাহরাস্তিতে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ পুনঃসংস্কার করে ঢাকা ও কক্সবাজারগামী ট্রেন চালু, হাজীগঞ্জ বাজারে যানজট নিরসনে বাইপাস বা উড়ালসেতু নির্মাণ এবং শাহরাস্তির ঠাকুরবাজার এলাকায় বাইপাস সড়ক নির্মাণ। উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শাহরাস্তিবাসীর জন্য আনন্দ ও গৌরবের। জনগণ আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন বলেন, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে শাহরাস্তিতে পেয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত। খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। স্থানীয়দের ধারণা, খোর্দ্দ খালের পুনঃখননের মাধ্যমে উয়ারুকসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।














কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন