১০ বছর বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন শিক্ষক

১০ বছর বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন শিক্ষক

ফন্ট সাইজ:

জামালপুরে ১০ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক খান। তবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলেও ডেপুটেশনের নামে জেলা শিক্ষা অফিসে নিয়মিত কাজ করছেন বলে দাবি ওই শিক্ষকের। যদিও ডেপুটেশনের লিখিত কোনো আদেশ দেখাতে পারেননি তিনি। জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের চর্ষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শফিকুল ইসলাম নামে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগকৃত থাকলেও এনামুলকে একই জায়গায় রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন জানান, ২০০৯ সালে তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর দুই-তিন বছর নিয়মিত চাকরি করার পর তিনি আর বিদ্যালয়ে আসেননি। তিনি ডেপুটেশনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কাজ করেন। কিন্তু আমাদের কাছে ডেপুটেশনের কোনো আদেশ কপি জমা দেননি। আমি স্যারদের কথায় তার বেতনে স্বাক্ষর করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক এনামুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ২০১৬ সাল থেকে প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও পরে জেলা শিক্ষা অফিসে কাজ করছি। অফিসের প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে এখানে রেখেছে, তাই আমি ডেপুটেশনে আছি। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, আমার সময়ে তিনি আসেননি।

তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একজন সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর নতুন করে আদেশ তৈরি করতে বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছেন ওই শিক্ষক। তবে এত বছর বিদ্যালয়ে না গিয়েও কীভাবে বেতন দিয়ে গেলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ এমন প্রশ্ন সবার।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন