আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব কিংসের

আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব কিংসের

ফন্ট সাইজ:

১১টি ফিফা ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা। বকেয়া বেতনের দাবিতে অনুশীলন বর্জন। ডোরিয়েল্টন ছাড়া বাকি বিদেশিদের দলত্যাগ। এসব বির্তক একপাশে রেখে আবারও বাংলাদেশ ফুটবল লীগের শিরোপা জিতলো বসুন্ধরা কিংস। গতকাল কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনী লিমিটেডকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করে কিংস। মাত্র ১৮ ম্যাচের এই লীগে কিংসের একমাত্র অবশিষ্ট বিদেশি ফুটবলার ডোরিয়েল্টন গোমেজ।

এই ব্রাজিলিয়ানই কিংসের হয়ে পার্থক্য গড়ে দেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে পেশাদার লীগে সুযোগ পাওয়া বসুন্ধরা কিংসের এটা টানা ষষ্ঠ শিরোপা। ২০০৭ সালে পেশাদার যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশের ফুটবল। এরপর থেকে সর্বোচ্চ ৬বার শিরোপা জিতে ঢাকা আবাহনী। সর্বোচ্চ শিরোপা জেতার তালিকায় এখন থেকে তাদের সঙ্গে নাম থাকবে বসুন্ধরা কিংসেরও। বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের জন্মের পর আর কখনও শিরোপা জেতা হয়নি ধানমণ্ডিপাড়ার ক্লাবটির। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে লীগ শিরোপা জিতেছিল দলটি। এরপর আরও চারবার রানার্সআপ হলেও শিরোপা জেতা দূরের স্বপ্নই রয়ে গেলো আকাশি-নীলদের জন্য। টানা পাঁচ মৌসুম শিরোপা জেতা কিংস গত মৌসুমে মোহামেডানের কাছে শিরোপা হারায়। এক মৌসুম বাদে লীগ ট্রফি পুনরুদ্ধার করল তারা। এদিন প্রিয় দলের শিরোপা উদযাপন দেখতে হাজারো দর্শক হাজির হয়েছিলেন কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের আশা পূর্ণ করতে যা প্রয়োজন সেই ‘সোনার হরিণ’ গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না ডোরিয়েল্টনরা। তাতে সময় গড়াতে গড়াতে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে হাঁটছিল। তবে শেষ সময়েই কামড়টা দিল বসুন্ধরা কিংস।

ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা। বক্সের মধ্যে আবাহনীর দুজন ডিফেন্ডার ফাহিমকে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তাতে সফল স্পটকিক নিতে ভুল করেননি ডোরিয়েল্টন। এটি লীগে এই ব্রাজিলিয়ানের ১৮তম গোল। তবে সেই রেশ শেষ না হতেই আনন্দ দ্বিগুণ করেন সোহেল রানা।

৭৮ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে বুলেট গতির এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। তাতে বসুন্ধরার শিরোপা পুনরুদ্ধার এক রকম নিশ্চিতই হয়। বাকি ছিল শুধু রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষা। আর রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই ১ ম্যাচ হাতে রেখে ৬ষ্ঠ বারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল লীগে চ্যাম্পিয়ন হয় বসুন্ধরা। ২-০ গোলে ট্রফি নিশ্চিত করা বসুন্ধরা সর্বশেষ মৌসুমের আগে টানা ৫ বার শিরোপা জিতেছিল। ১৭ ম্যাচে বসুন্ধরার পয়েন্ট ৩৮। বিপরীতে সমান ১৭ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট আবাহনী ও ফর্টিসের।

চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হওয়ার আগে ২ গোলে পিছিয়ে পড়া আবাহনী ৮৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। একক নৈপুণ্যে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগটা পেয়েছিলেন এমেকা ওগবুগ। প্রায় মাঝমাঠ থেকে শরীরের নাচনে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ডান পায়ের শটটি অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। আরেকটি সুযোগ এসেছিল যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে। তবে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে সুলেমান দিয়াবাতে ঠিকমতো সতীর্থকে বল পাস দিতে না পারায় গোল আর পাওয়া হয়নি আবাহনীর। আলতো টোকার বলটি তালুবন্দি করেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। পরে আর গোল না হলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে মাততে গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়েন হাজারো সমর্থক।

এদিকে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পুলিশ এফসি। ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে পিডব্লিউডি। ব্রাদার্স ইউনিয়নকে মুর্শেদ আলী ও পা ওমার বাবুর নৈপুণ্যে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফর্টিস এফসি। ফর্টিসের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই আরও জমে উঠেছে। তাদেরও এখন আবাহনীর সমান ৩৪ পয়েন্ট। ২০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে মোহামেডান। পঞ্চম স্থানে রহমতগঞ্জের পয়েন্ট ২২। ২৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে পুলিশ এফসি। ১৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা ফকিরেরপুলের অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেছে। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে থাকা আরামবাগ আছে অবনমনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। লীগ থেকে ঝরে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে থাকা পিডব্লিউডিও।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন