দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের পর ছয় জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কোচদের এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম ক্রিস কোলম্যান। ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক এই কোচকে নিয়ে আগ্রহ আছে বাফুফের। তবে কোলম্যানকে নিয়োগে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। এই বাধা দূর করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হকের দ্বারস্থ হয়েছে বাফুফে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমিনুলও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল রাজধানীর পল্টন ইনডোরে প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টনের উদ্বোধন করতে এসে দুই-তিনদিনের মধ্যে কোচ নিয়োগের বিষয়টি সুরাহা হওয়ার কথা বলেন আমিনুল। ক্রিস কোলম্যান ও সহকারীসহ তাকে পেতে মাসিক বেতন দিতে হবে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। দুই বছরের চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। সেটা বাস্তবায়নে বাফুফে সরকারের কাছে বেতনের বড় একটা অংশ চেয়েছে। আমিনুল এ নিয়ে বলেন, ‘আমরা একটি মধুর সংকটে পড়েছি। আমরা ইতিমধ্যে বাফুফের সভাপতির সাথে কথা বলেছি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতেও কথা হয়েছে।
আগামী দুই বছরে জাতীয় দলের যে খেলাগুলো রয়েছে, সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে এবং ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা বেড়েছে, মানুষের যে প্রত্যাশা রয়েছে, সেটা পূরণ করা সবচেয়ে বেশি জরুরী। আমরা আশা করছি যে আগামী দুই তিন দিনের ভেতর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো যে কে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোচ।’ বড়মাপের কোচ আসলেই ফুটবলের চিত্র রাতারাতি বদলে যাবে, তা মনে করেন না মন্ত্রী। তবে নিজেদের সীমাবদ্ধতার মাঝেই সেরা একজনকে নেওয়ার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ব্যয়বহুল কোচ এনে আমরা কতোটুকু বেনিফিট পাবো বা আমাদের সীমাবদ্ধতার বিচারে আমার কাছে মনে হয় যে রাতারাতি কখনই কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব না। তবে আমরা চাইবো যিনি দায়িত্ব নিক তাকে যাতে যথেষ্ট সময় দেয়া হয়। নইলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল মিলবে না।’ দায়িত্ব নিয়ে এমন কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন আমিনুল যা ব্যপক প্রসংশিত হচ্ছে। যার অন্যতম ক্রীড়াবিদদের মাসিক বেতনের আওতায় নিয়ে আসা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দলে খেলা ৩০০ ক্রীড়াবিদকে ১ লাখ টাকা করে বেতন দিতে শুরু করেছে সরকার। নতুন অর্থ বছরে সংখ্যাটা ৫০০-উন্নীত করা হবে। প্রতিদিন যেখানেই যাচ্ছেন কিছু না কিছু আবদার মেটাতে হচ্ছে, কাউকেই অখুশি করছেন না।
অথচ ক্রীড়াক্ষেত্রে সরকারী বরাদ্দ অপ্রতূল। আমিনুল যেভাবে ক্রীড়াঙ্গনকে সাজাতে চাইছেন, সেটা পূরণে তার প্রয়োজন বড় বাজেট প্রয়োজন জানিয়ে বলেন, ‘বিগত সময়ের ক্রীড়া বাজেট সম্পর্কে সবার ধারণা রয়েছে। সেই বাজেট বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একদমই অপ্রতূল। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে, মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সাথেও এরমধ্যেই কথা হয়েছে।
আমাদের কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে ক্রীড়া বাজেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আগামীর বাজেটের একটি বৃহৎ অংশ ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে ব্যবহারের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’ যানা গেছে, ক্রিস কোলম্যান ও তার সহকারীকে নিয়োগে সরকারের কাছে ১৫ হাজার ডলার চেয়েছে বাফুফে। আমিনুলও বেশ আশাবাদী। তবে কেবল বেতন দিলেই তো চলবে না, এই মানের কোচকে ধরে রাখতে বাড়াতে হবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। আবার এই কোচের সঙ্গে কাজ করার সামর্থ্যও অর্জন করতে হবে ফুটবলারদের।
