ওয়ানডে দলে মিডল অর্ডারে শক্তি বাড়াতে এই মুশফিকুর রহীমকে ফেরাতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। সেই ডাকে সাড়া দেননি ৪০ বছর বয়সী এ ব্যাটার। সিলেট টেস্টের আগে অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণ জানিয়েছেন মুশফিক। তিনি বলেন ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন, আমার কাছে (প্রস্তাব) এসেছিল। কিন্তু আমি মনে করি, বাংলাদেশ দল ইনশা আল্লাহ এমন একটা পর্যায়ে এখন আছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে, আমি মনে করি যে আমার ও রকম সার্ভিস দরকার হবে না।’
গতবছর পাকিস্তানে হওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানান মুশফিকুর রহীম। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটার। টাইগারদের হয়ে এখন সাদা পোশাকেই খেলছেন মুশফিক, নিয়মিত পারফরম্যান্সও করছেন। একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে তিন সংস্করইে অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক। লাল-সবুজ জার্সিতে ২৭৪ ওয়ানডেতে ৩৬.৪২ গড়ে করেন ৭৭৯৫ রান। সেঞ্চুরি ৯টি। গতবছর বাংলাদেশ দল ওয়ানডেতে টানা চার সিরিজ হারের পর মুশফিককে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। সাড়া দেননি মুশফিক। পরিবারকে সময় দেয়া ও টেস্ট ক্রিকেটকেই উপভোগ করতে চান তিনি। মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর পথে দুই ইনিংসে ৭১ ও ২২ রানের ইনিংসে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মুশফিক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩৪ টেস্টে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। সাদা পোশাকে টাইগারদের উত্থান-পতনের স্বাক্ষীও হয়েছেন। সেই পর্যবেক্ষণ থেকে এখনকার টেস্ট দলকে সেরা বলছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আগেও অনেক দারুণ ব্যক্তিগত পারফরমার ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে আপনি যদি বলেন ধারাবাহিকতার দিক থেকে, যদি আপনি খেয়াল করে দেখেন, অবশ্যই এখন যে টেস্ট দলটা খেলছে, সব সময়ের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক। আগে আমরা এক বছরে গড়ে হয়তো সর্বোচ্চ তিনটা টেস্ট খেলতাম, এ রকম হলে ফল পাওয়া খুব কঠিন। এখন ৮-১০টা খেলি, আগের থেকে এটা ভালো।’
এখন পারফরমারের সংখ্যাও বেশি বলে মনে করেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘এখন যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ। সেদিক থেকে বলব, তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তারা পারফর্ম করছে, যেটা আমি বললাম একটু আগে যে পারফরমারের সংখ্যাটা অনেক বেশি। পারফরমারের সংখ্যা যখন একটা দলে ৫ থেকে ৭-৮ জন হবে, সেই দলটা যেকোনো সংস্করণেই হোক তারা ভালো করবে।’ বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একশো টেস্ট খেলার কীর্তি গড়েন মুশফিক। পথটা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে সেই উত্তরে ডানহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আপাতত কোনো লক্ষ্য নেই। কালকের (আজ) ম্যাচটাই শেষ হয়ে যেতে পারে আবার...বাকিটা উপরওয়ালা জানে। মৃত্যুর আগে শেষ কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা (হাসি)। বেঁচে থেকে যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে। এখন ছাড়বো বা কবে ছাড়বো, এটা আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ভালো সময় থাকতেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।’
