চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের চুক্তি, বাংলাদেশ-ভারতে কী হবে?

চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের চুক্তি, বাংলাদেশ-ভারতে কী হবে?

ফন্ট সাইজ:

চীনের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবক সংস্থা মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। গতকাল এই চুক্তি হয় বলে তাদের বরাতে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। ‘দ্য ইয়াংতসি ইভেনিং পোস্ট’-এর তথ্যমতে, চুক্তিটি সম্পন্ন হলেও এর মূল্য বা এটি ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে কি না তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে চীনের রাষ্ট্রীয় সমপ্রচার প্রতিষ্ঠান সিসিটিভি স্বত্ব পেয়েছিল। চীনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ ও ভারত এখনো অন্ধকারে রয়েগেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ফিফা সমপ্রচার চুক্তি বিশ্বের ১৭৫ অঞ্চলে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ঝুলে ছিল চীন, ভারত ও বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ম্যাচ সমপ্রচারের বিষয়। ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্টর্ম এই সপ্তাহে বেইজিংয়ে সফর করেছেন। এ সময় তিনি চাইনিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সং কাইয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন, যেখানে সমপ্রচার স্বত্ব নিয়ে সিএমজি’র সঙ্গে ফিফার আলোচনা সমাধানের কাছাকাছি বলে গুঞ্জন শোনা যায়। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, চীনে মোবাইল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মিগুকে ২০২৬ বিশ্বকাপ সমপ্রচার বন্টন চুক্তি সম্পন্ন করতে বলেছিল সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ। তবে ওই সূত্র ঠিক কত টাকায় ফিফা ও সিসিটিভির মাঝে চুক্তির শর্ত ছিল তা নিশ্চিত হতে পারেননি। এখন পর্যন্ত জানা যায়নি মিগু’র মন্তব্য-ও।

২০১৮ সালে সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপ সমপ্রচারের স্বত্ব মিগু এবং আলিবাবার ইউকু’কে সাব-লাইসেন্স দেয়, যা ছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে তাদের প্রথম লাইভ ডিজিটাল স্বত্ব ভাগাভাগি। কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের টুর্নামেন্টের জন্য সিএমজি মিগু, ডুইন এবং বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক টিভি স্টেশন পর্যন্ত এর বিতরণ প্রসারিত করে। চীন বিশ্বকাপ সমপ্রচারের নিশ্চয়তা পেলেও, ভারতীয় ফুটবল সমর্থকদের এখনও দুশ্চিন্তা কাটেনি। এর আগে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের সঙ্গে সময়সূচির সুবিধার কারণেই ২০২২ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ মালিকানাধীন ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ভায়াকম-১৮ বিশ্বকাপ সমপ্রচারস্বত্ব কিনতে ৬ কোটি ডলার খরচ করেছিল এবং তাদের জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে ম্যাচগুলো সমপ্রচার করা হয়।

ভারতের ক্রীড়া ব্যবসাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্টেট অব প্লে’-এর তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় জিওসিনেমার মাসিক ইউনিক ভিজিটর ছিল ৩০ লাখেরও কম, যা ফাইনালের সময় বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছায়। ওই চুক্তিতে অবশ্য ভায়াকম-১৮ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিজ্ঞাপন থেকে তারা আয় করে মাত্র ৩ কোটি ডলারের মতো। ভারতীয় বাজার বোঝার জন্য বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জিওসিনেমার নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফি নিলেও সেটি বছরে মাত্র ১৪ ডলার। ভারতীয় গণমাধ্যম কোম্পানিগুলোর মূল আয় আসে বিজ্ঞাপন থেকে, সাবস্ক্রিপশন থেকে নয়। ফলে কাতার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শীতকালে এবং তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে সমপ্রচারিত হলেও, বিজ্ঞাপন আয় সমপ্রচারস্বত্বের খরচ তুলতে যথেষ্ট ছিল না।

এ কারণে চড়া মূল্যে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ত্ব কিনতে রাজি হচ্ছে না ভারতের কোন প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের সময়সূচি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এবারের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৫২টি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগে এবং বাকি ৫২টি ম্যাচ ভোর ৪টার পর। অর্থাৎ সিংহভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ভোরের দিকে। সমপ্রচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোরের দিকে ম্যাচ হওয়ায় দর্শকসংখ্যা কম থাকবে।

এতে বিনিয়োগ করে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি দেখছেন তারা। তাইতো বিনামূল্যে সম্প্রচার স্বত্ত্ব চেয়ে ফিফার কাছে ই-মেইল করেছে বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়। যদিও বিনামূল্যে সম্প্রচার স্বত্ত্ব পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তাইতো দ্রুতই এশিয়ার সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক-এর সাথে আলোচনায় বসবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সেখানে এই সংকটের সমাধান হতে পারে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন