রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দারুণ খেলা উপহার দিয়েও যেন সমর্থকদের মন জয় করতে পারছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। লস ব্লাঙ্কোসদের জয়ের রাতেও ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাকে শুনতে হয় দুয়ো ধ্বনি। রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামতেই গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এদিন ওভিয়েদোকে ২-০ গোলে হারায় লস বাঙ্কোসরা। দলের হয়ে গোল দু’টি করেন তরুণ গঞ্জালো গার্সিয়া ও তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ইতোমধ্যে ৪১ গোল করেছেন এই ফরাসি তারকা।
তবুও সমর্থকদের একাংশ তার ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে বার্সেলোনার কাছে হেরে লা লিগার শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় মাদ্রিদ সমর্থকদের মধ্যে। এর মাঝেই চোট থেকে সেরে ওঠার সময় ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপে ইয়টে ভ্রমণরত এমবাপ্পের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেটি ভালোভাবে নেয়নি রিয়াল সমর্থকদের বড় একটি অংশ। অনলাইনে ‘এমবাপে আউট’ শিরোনামে একটি পিটিশনেও নাকি লাখো সমর্থক সই করেছেন।
খেলার প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে দারুণ এক শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন গঞ্জালো। বিরতির পর মাঠে নামেন বেলিংহাম ও
এমবাপ্পে। ম্যাচের ৮০ মিনিটে বেলিংহামের বুদ্ধিদীপ্ত গোলে জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। জয়ের আনন্দের মধ্যেও গ্যালারিতে ছিল অস্বস্তির আবহ। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন বার্নাব্যু জুড়ে শুরু হয় দর্শকদের দুয়োধ্বনি। এমবাপ্পের বিরুদ্ধে দুয়োর পাশাপাশি সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের পদত্যাগ চেয়ে ব্যানারও প্রদর্শন করেন কিছু সমর্থক। যদিও পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত সেগুলো সরিয়ে ফেলেন। ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শান্তভাবেই প্রতিক্রিয়া দেন এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘দুয়ো দেওয়া ফুটবলেরই অংশ। মানুষ রাগান্বিত হলে তাদের মত বদলানো কঠিন।
রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাব এবং আমার মতো খেলোয়াড়ের জীবনে এমনটা ঘটতেই পারে। আমাদের কাজ হলো এগিয়ে যাওয়া এবং পরিস্থিতি বদলে দেয়া।’ এক বিস্ফোরক মন্তব্যও করেন এমবাপ্পে। তার দাবি, কোচ আরবেলোয়া তাকে জানিয়েছেন যে তিনি এখন দলের ‘চতুর্থ পছন্দের’ স্ট্রাইকার! অর্থাৎ ভিনিসিউস বা তরুণ গঞ্জালোদের চেয়েও তাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তবে কোচ আরবেলোয়া এই অভিযোগ শুনে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাকে এমন কথা কখনোই বলিনি। সম্ভবত সে আমার কথা ভুল বুঝেছে।
তবে দল কে চালাবে, আর কে খেলবে-সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক শুধুই আমি।’ টানা দ্বিতীয় মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদ কোনো বড় শিরোপা ছাড়াই শেষ করতে যাচ্ছে। লীগ শিরোপা আগেই বার্সেলোনা জিতে নিয়েছে। জাবি আলোনসোকে সরিয়ে আরবেলোয়াকে কোচ করা হলেও রিয়াল মাদ্রিদের ভাগ্য ফেরেনি।
