মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের টার্গেট দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। তারপর বোলারদের তোপের মুখে ১৬৩ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর শান মাসুদরা কঠোর সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের কাছে টানা তিন টেস্ট হারের পর ওঠা সমালোচনার ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে না পাকিস্তান। বরং সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তাদের মনে। সিলেটে সিরিজ বাঁচানোর মিশন পাকিস্তানের সামনে।
প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্স নিয়ে স্বাভাবিকভাবে অসন্তুষ্ট কোচ সরফরাজ আহমেদ। তবে পাকিস্তানের সবশেষ আইসিসি ইভেন্ট জয়ী অধিনায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করে গতকাল ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রথম টেস্টের পর আমরা খুবই হতাশ, বিশেষ করে দল হিসেবে। কিন্তু পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস আছে। আমাদের জন্য সমালোচনা নতুন কিছু নয়, যখন পারফরম্যান্স বাজে হয়। আর সাবেক খেলোয়াড়দের মন্তব্য আমাদের প্রভাবিত করে না।’ সোশাল মিডিয়াতে নানান সমালোচনা সম্পর্কে অবগত সরফরাজ। তাতে কান না দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোশাল মিডিয়ায় নানান কথাবার্তা হচ্ছে, আমরা সেদিকে কান দিচ্ছি না। আমাদের পুরো মনোযোগ পরের ম্যাচে। আমি আশা করি সিনিয়র খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নেবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা আলোচনা করব।’ এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান।
এবার সেই সাফল্যের ধারা ধরে রেখে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার হোম টেস্ট জিতল নাজমুল হোসেন শান্তরা। নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জয়ে অবদান রাখেন। ২০২৪ সালের সিরিজে চার ইনিংস মিলিয় মাত্র ৬৬ রান করতে পেরেছিলেন বাবর আজম। তাকে দুবার আউট করেছিলেন নাহিদ রানা। এছাড়াও এক ইনিংসে তাকে শূন্যতে ফিরিয়ছিলেন শরিফুল ইসলাম। নাহিদ-শরিফুলরা খেলবেন সিলেট টেস্টেও। মিরপুর বাবর ছিটকে পড়ার পর তার জায়গায় সুযোগ পেয়ে অভিষেকে ৬০ ও ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন আব্দুল্লাহ ফাজাল। এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে বাদ দেওয়া কঠিন।
আরেক অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আজান আওয়াইস অভিষেকে করেছিলেন সেঞ্চুরি। বাবরকে জায়গা দিতে বাইরে যাবেন কে, এই প্রশ্নে পাকিস্তানের কোচ বলেন, ‘টসের পরই একাদশ জানতে পারবেন।’ একটা সমাধান হতে পারে ইমাম উল হককে বাইরে রাখা। সেক্ষেত্রে আজানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারেন ফাজাল। মিরপুরে তিনে খেললেও মূলত তিনি ওপেনারই।
