বিদ্যালয়ে ময়লার ভাগাড়

বিদ্যালয়ে ময়লার ভাগাড়

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘সরাইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। উপজেলা সদরের বিকাল বাজার ও সরকারি অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানেই এটির অবস্থান। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে মাত্র ২/৩ শত গজ দূরের এ বিদ্যালয়টির ভেতরেই গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। প্রধান ফটক, মাঠের চারিদিকে ও দক্ষিণ পাশের ময়লার স্তূপ থেকে আসা দুর্গন্ধে এখন অতিষ্ঠ শিক্ষক-কর্মচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। গত ৫/৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ে এমন দুরবস্থা চললেও নীরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকরা বলছেন, শত চেষ্টা তদবির করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। সরজমিন অনুসন্ধান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র ও অত্যন্ত ব্যস্ততম জায়গায় গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টির বর্তমান মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪০২ জন। ফলাফলও ভালো। শিক্ষক রয়েছেন ১১ জনের স্থলে ৯ জন। দক্ষিণ পাশে অন্নদা স্কুলের বহুতল ভবন। পূর্ব পাশে পুকুর।

আর উত্তর পাশে বিকাল বাজার। পশ্চিম পাশে রয়েছে পানি নিষ্কাশনের খাল। বিদ্যালয় চত্বরের ভেতরেই রয়েছে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার। যদিও ইদানিং সেন্টারটিতে নিয়মিত ঝুলছে তালা। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব হবে মাত্র ২-৩ শত গজ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সর্বক্ষণ নজরদারিতে থাকা বিদ্যালয়টির ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রধান ফটকের দুই পাশে ময়লা। ভেতরে মাঠের চারিদিকে শুধু ময়লা। সবচেয়ে বাজে ও ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠ ও মূল ভবন সংলগ্ন পশ্চিম উত্তর পাশের। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে খণ্ড খণ্ড বিশাল আকৃতির ময়লার স্তূপ। বাজারের বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ও সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা চামড়ার আড়তের উচ্ছিষ্ট এখানেই ফেলা হয়। হাঁস-মোরগ, কবুতর হাটের ময়লা ও জবাইকৃত গরু-মহিষের রক্ত অবশিষ্টাংশসমূহ ফেলার নিরাপদ জায়গাও এটি। ফলে বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন ওই স্থানে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। একই অবস্থা উপজেলা প্রশাসন চত্বর সংলগ্ন নিজসরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের সড়কের পাশের। সেখানেও বিকাল বাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা ফেলে দুর্গন্ধ তৈরি করেছেন।

এমন দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বারবার চেষ্টা করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তারা। বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাস আর দেখছিতেই বিষয়টি বন্দি হয়ে আছে। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জায়িন, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নোহা ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আহনাফ আমীন ও ছাত্রী মীম বলেন, আমরা বিদ্যালয়ে পড়তে আসি। কিন্তু পচা-বাসি গন্ধে শ্রেণি কক্ষে বসতে পারি না। একাধিক অভিভাবক বলেন, সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে দুর্গন্ধে দাঁড়ানো যায় না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিক মিয়া বলেন, বিকাল বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের সকল প্রকার উচ্ছিষ্ট ফেলে ময়লার স্তূপ তৈরি করেছেন। আমরা বাজার কমিটিকে একাধিকবার জানিয়েছি।

কোনো ব্যবস্থা নেই। আর পারছি না। শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা ফেলার কথা স্বীকার করে বলেন, নিরুপায় হয়ে তারা ময়লা ফেলছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন; পরে হয়নি। বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সভাপতি ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ মামুন বলেন, ময়লার ভাগাড় শুধু পরিবেশ নয়, শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন