স্বল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কালোজিরা আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। বহু ঔষধি গুণসম্পন্ন ও মসলা হিসেবে পরিচিত কালোজিরা একটু আঠালো ও পলিযুক্ত মাটিতে ভালো উৎপাদন হয়। ফলে উপজেলার চরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি আবাদ করা হচ্ছে। কালোজিরা মাত্র ৪ মাসেই ফসল ঘরে তোলা যায়।
প্রতি বছর রোপা আমন ধান কাটার পর নভেম্বর মাসে জমিতে চাষ দিয়ে আবাদ করা হয় এবং মার্চের শেষের দিকে ফসল তোলা শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- প্রতিবিঘা (৪২ শতক) জমিতে কালোজিরা আবাদে চাষ, বীজ বপন, কীটনাশক ও শ্রমিক দিয়ে মোট খরচ হয় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৭ থেকে ৮ মণ।
যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি মণ ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। অন্যান্য রবি ফসল উৎপাদনের চেয়ে তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ার কারণে প্রতি মৌসুমেই বাড়ছে কালোজিরার আবাদ। উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের কৃষক বাবলু মোল্যা বলেন- কালোজিরা চাষের জন্য আমাদের এই অঞ্চলের মাটি খুবই উপযোগী। তবে দাম এ বছর একটু কম। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। চরবিষ্ণুপুরের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন- পচা দো-আঁশ মাটিতে কালোজিরার উৎপাদন একটু বেশি হয়। বর্ষা শেষে নতুন পলিযুক্ত মাটিতে চাষ দিয়ে আবাদ করা হয়। এতে সার ও কীটনাশক খুবই কম লাগে। প্রতি বিঘা থেকে আয় হয় প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা। সাড়েসাতরশি বাজারের ব্যবসায়ী সাহেদ আলী বলেন- কালোজিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা জাতীয় ফসল। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলের মাটির উর্বরতার কারণে কম খরচে ভালো ফলন হয়।
কৃষি বিভাগের উচিত কৃষকদের আরও উৎসাহিত করা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীটুল রায় বলেন- এ বছর উপজেলায় ৪৯৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরার আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বীজের ব্যাপারে তিনি জানান- সাধারণত ‘বারি-১’ জাতের কালোজিরার বীজ বিএডিসি থেকে সরবরাহ করা হয়, পাশাপাশি কৃষকরা স্থানীয়ভাবেও বীজ সংরক্ষণ করেন।
