শৈলকুপায় পিআইসিকে জিম্মি করে নিম্নমানের কাজ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শৈলকুপায় পিআইসিকে জিম্মি করে নিম্নমানের কাজ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহের শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শৈলকুপা পিআইও’র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া, পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রকৃত দায়িত্বশীলদের আড়াল করে একজন জনপ্রতিনিধিকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭ নম্বর হাকিমপুর ইউনিয়নের চামটাইলপাড়া মোড় থেকে স্থানীয় মন্দির অভিমুখে প্রায় ২৭০ ফুট রাস্তা পাকাকরণের জন্য চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি আব্দুল মতিন হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, হাকিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। প্রকল্পের (পিআইসি) হিসাবে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

অথচ কীভাবে হয়েছে কিংবা কারা কাজ করছে- কিছুই আমাকে জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার নজরুল ও পিআইও নিউটন বাইন যোগসাজশে এই কাজ করছে। আমি কিছু বলতে গেলে আমার বাড়িঘর ভাঙচুর, এমনকি আমার ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু ব্যবহার করায় অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সরকারি বিধি অনুযায়ী পিআইসি সভাপতি আব্দুল মতিন হান্নানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল বলেন, কাজে কিছু ত্রুটি ছিল। অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিম্নমানের ইট ও খোয়া সরিয়ে পুনরায় সঠিকভাবে কাজ করা হবে।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন বলেন, আমি এ প্রকল্পের বিষয়ে অবগত ছিলাম না। ঘটনাস্থলে এসে প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম। কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকার প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করার জন্য আপনি চেক প্রদান করলেন- তা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

পরে পুনরায় নির্মাণ সামগ্রীর সঠিক মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পিআইসি সভাপতিকে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এবং পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পিআইসি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওপর বর্তায়। তাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন