কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনী লিমিটেডকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ ফুটবল লীগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ২০০৭ সালে পেশাদার যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশের ফুটবল। এরপর থেকে সর্বোচ্চ ৬বার শিরোপা জিতে ঢাকা আবাহনী। সর্বোচ্চ শিরোপা জেতার তালিকায় এখন থেকে তাদের সঙ্গে নাম থাকবে বসুন্ধরা কিংসেরও। ক্লাবটির জন্মের পর থেকে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো লীগ শিরোপা জিতল তারা।
এদিকে বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের জন্মের পর আর কখনও শিরোপা জেতা হয়নি ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটির। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে লীগ শিরোপা জিতেছিল আবাহনী।
এরপর আরও চারবার রানার্সআপ হলেও শিরোপা জেতা দূরের স্বপ্নই রয়ে গেলো আকাশি-নীলদের জন্য। আর ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে টানা ৫বার লীগ শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। গত মৌসুমে মোহামেডানের কাছে শিরোপা হারায় তারা। এক মৌসুম বাদে লীগ ট্রফি পুনরুদ্ধার করল কিংস।
এদিন ৪৩ মিনিটে আবাহনী জালে বল ঠেলেও অফসাইডের কারণে গোল পাননি কিংসের সোহেল রানা সিনিয়র। বিরতির এই অর্ধে আবাহনীর চেয়ে দারুণ খেলেও গোলশূন্য বিরতিতে যায় কিংস। ৬২ মিনিটে এক পরিবর্তন আনে আবাহনী। মিরাজুলের জায়গায় কোচ মারুফুল হক বদলি হিসেবে নামান ব্রুনো মাতোসকে। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার মাঠে নামার পরপরই বেশ কিছু আক্রমণ শানায় আবাহনী। ৬৫ মিনিটে এমেকার দারুণ ক্রসের নাগাল পাননি ব্রুনো। ৬৬ মিনিটে আরও সুযোগ হাতছাড়া করেন এই ব্রাজেলিয়ান। ৭২ মিনিটে বক্সে ফাহিম ঢুকে পড়লে তাঁকে বাধা দিয়ে পেনাল্টি হজম করেন আবাহনী অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু।
বাম দিকের টপ কর্নার দিয়ে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে দেন ডোরিয়েল্টন গোমেস । ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের লীগের ১৮তম গোলে শিরোপার সুবাস পেতে থাকলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। ৭৬ মিনিটে ব্রুনো মাতোসের শট ধরে ফেলেন শ্রাবন। পরের মিনিটে শিরোপা নিশ্চিত করা গোলটি করলেন কিংসের সোহেলে রানা। ছোট সোহেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে বা পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন সিনিয়র সোহেল। ৮১ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ হয়নি মিতুলের দৃঢ়তায়।
ডান দিক দিয়ে উপরে উঠে পোস্টেই শট নেন সাদ উদ্দিন। সেটি আটকে দেন মিতুল, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ছোট বক্সের মধ্য থেকে ইমনের শট প্রতিহত হয় আবাহনী রক্ষণে।
দিনের অন্য ম্যাচে রহমতগঞ্জ ১-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডানকে। আরামবাগের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে পুলিশ এফসি। আর পিডব্লিউডির বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে অবনমিত হয়ে গেলে ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাব। একদম তলানিতে থাকা দলটির সংগ্রহ ১০ পয়েণ্ট।
