টেলিভিশন সাংবাদিকতা

টেলিভিশন সাংবাদিকতা

ফন্ট সাইজ:

টেলিভিশন সাংবাদিকতা বলে সংবাদপত্রে নতুন একটি শব্দ যুক্ত হয়েছে। আগে ছিল বিনোদন। এখন টেলিভিশন সাংবাদিকরা আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন যখন জনপ্রিয় হতে থাকে তখন তার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় তৎকালীন প্রকাশিত দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকার পাতায় পাতায়। টেলিভিশন নিয়ে আলাদা প্রোগ্রাম তৈরি হলো। টেলিভিশনের কলা- কুশলীদের নানা ধরনের খবরাখবর ছাপা হতে লাগলো। একটা সুচি নিশ্চিতভাবে থাকতো সেটা হলো আজকের অনুষ্ঠান।

টেলিভিশনের নাটক, গান কিংবা ছোটদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে নানা ধরনের ছোট ছোট তথ্য ছাপা হতো। মনে আছে টেলিভিশনের এই জনপ্রিয়তাকে ধারণ করে বিচিত্রা অনেক কাভার স্টোরি করেছিল টেলিভিশন নিয়ে। তখনকার সময়ের সচিত্র সন্ধানী, রোববারÑ টেলিভিশনকে উচ্চ মর্যাদা দিতো। টেলিভিশন নিয়ে যারা বিনোদন রিপোর্ট করতো তাদেরকেই সম্মান দিয়ে নাম দেয়া হলো টেলিভিশন সাংবাদিকতা। এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা শুরু হয় ষাট বছর আগেই। ফজলুল হক প্রকাশ করেছিলেন চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা সিনেমা। তখন এদেশে সিনেমা তৈরি হচ্ছে না কিন্তু তিনি একটা পত্রিকা বের করছেন। সেই পত্রিকায় লিখতেন, কাইয়ূম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ। এই পত্রিকায় যারা কাজ করতেন পরবর্তী পর্যায়ে তারা খুবই বিখ্যাত হয়েছিলেন। দু’টি পত্রিকা তখন খুব বিখ্যাত হয়। একটি হলো চিত্রালী আরেকটি পূর্বাণী। চিত্রালী এখন একটি ইতিহাস। এত জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল চিত্রালী এটা কল্পনাও করা যায় না। সামনের পাতায় নায়িকাদের বিশাল ছবি ছাপা হতো। ভেতরে ফিল্মের নানা ধরনের সংবাদ ছাপা হতো। অনেক তারকার ঘরের খবর পর্যন্ত তুলে ধরতো চিত্রালী।

এই চিত্রালীও একসময় এক পাতা দু’পাতা টেলিভিশনের সংবাদ-এর জন্য ছেড়ে দেয়। কিছু রিপোর্টার রামপুরা টেলিভিশন ভবন ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। এইসব সংবাদ ছিল আকর্ষণীয়। নানা রকম চমকপ্রদ খবর পেতে পাঠক আগ্রহী থাকতো। নানা ধরনের মুখরোচক সংবাদও তৈরি হতো। পাঠক এইসব সংবাদ পড়ে আনন্দ পেতো। আর এইসব সংবাদ সংগ্রহের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন। তাদের ভেতর আবদুর রহমান ছিলেন অন্যতম। পরে অবশ্য তার সম্পাদনায় প্রিয়জন নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশিত হয় এবং জনপ্রিয়তা পায়। বিনোদন সাংবাদিকতায় শাহদাৎ হোসেন, গোলাম সারওয়ার, সৈয়দ শামসুল হক, অভিনয় কুমার দাস, হারুন রশিদ খান, মাহফুজ সিদ্দিকী, আহমদ জামান চৌধুরী, মতিউর রহমান চৌধুরী, শহীদুল হক খান, রফিকুজ্জামান, ফজল শাহাবুদ্দিন, রেজানুর রহমান, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, কায়কোবাদ মিলন, নরেশ ভুঁইয়া, অরুণ চৌধুরী এরকম অনেক নাম উল্লেখ করা যায়। যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন বিনোদন জগতের সংবাদ পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য। চলচ্চিত্র টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নে বিনোদন সাংবাদিকদের বিশাল ভূমিকা আছে এটা অস্বীকার করা যাবে না।

বাংলাদেশ টেলিভিশন একটি বড় ইনস্টিটিউশন। অনেক ধরনের অনুষ্ঠান করতো তারা। অনেক ধরনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতো। আর দর্শকরা উন্মুখ হয়ে বসে থাকতেন টেলিভিশনের সামনে। তাই স্বাভাবিকভাবে যাদের টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থিতি থাকে সেগুলোই টেলিভিশন সাংবাদিকদের উপজীব্য হয়ে ওঠে। পরে টেলিভিশনের ব্যাপ্তি বেড়েছে। অনেক স্যাটেলাইট টেলিভিশন এসেছে দেশে। সব মিলিয়ে আমরা দেখি বিনোদনের পাতায় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশনের সংবাদও থাকে।

আমার মনে আছে একসময় টেলিভিশন-এর অনুষ্ঠান নিয়ে নানারকম রিভিউ হতো পত্রিকায়। যেমন জাহানারা ইমাম লিখতেন টেলিভিশন সমালোচনা। কোনো অনুষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি- সবকিছু তুলে ধরতেন। ক্রামট এলি নামে একজন ছদ্মনামে লিখতেন। যায়যায়দিনে টিভি সমালোচনা করতেন। সেটাও ছিল আলোচিত ব্যাপার। টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতারা এইসব সমালোচনা অনুসরণ করতেন। এবং নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরাতে চেষ্টা করতেন। বিটিভি’র কোনো মিটিংয়ে এসব বিষয় উঠে আসতো।

দৈনিক আজকের কাগজই সম্ভবত প্রথম টেলিভিশনের জন্য অর্ধেক পাতা ছেড়ে দিয়েছিল। আফজাল হোসেনের বিয়ের খবর প্রথম পাতায় ছেপেছিল আজকের কাগজ। তখনকার বিবেচনায় এটা বিশাল ঘটনা। টেলিভিশনে খবর পড়েও অনেকে স্টার হতেন। তাদের নিয়েও সংবাদ ছাপা হতো। এখন টেলিভিশন বেড়ে গেছে বলে দৈনিক পত্রিকায়ও এসব সংবাদ কমে গেছে। তবে মানসম্মত অনুষ্ঠানগুলোর খবর আমরা পেয়ে থাকি। চিত্রালী কিংবা পূর্বাণীর মতো পত্রিকা না থাকলেও বিনোদন জগতে আরও ঝকঝকে, তকতকে আরও পত্রিকা বের হচ্ছে। যেমন-আনন্দ আলো, অন্যদিন, ক্যানভাস-এর মতো পত্রিকাগুলো। এইসব পত্রিকার ছাপা ফটোগ্রাফি, মেকআপ সবকিছুই আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করা হয়। এইসব পত্রিকাতেও টেলিভিশন সংবাদ একটা ভূমিকা রাখে। টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে এই মুহূর্তে যাদের নাম মনে পড়ছেÑআবদুর রহমান, নরেশ ভুঁইয়া সহ অনেকে। টেলিভিশনের ভালো- মন্দের সঙ্গে এইসব সাংবাদিকদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সারা দুনিয়াতেই টেলিভিশন সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। যেমন ক্রীড়া সাংবাদিক, বিনোদন সাংবাদিক। আইন আদালত সাংবাদিক। এরকম ভিন্ন ভিন্ন সাংবাদিক আছে। এটা মূল সাংবাদিকতার বাইরে। যে কারণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অবদান তারা টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে চালু করতে পেরেছিল। টেলিভিশনের সফল অনুষ্ঠানের ফলে এরকম সাংবাদিকতার সৃষ্টি হয় এবং আমাদের কাছে পরিচিত করে তোলে। সকালবেলা যখন পাঠক পত্রিকা পেতো তখন পত্রিকার বিনোদন পাতায় টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচি খুঁজতো। এখন বিনোদন সাংবাদিকতার প্যাটার্নও পরিবর্তন হয়েছে প্রযুক্তির কারণে। এখন তথ্য পাওয়া যায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে। টেলিভিশন যত ভালো ভালো অনুষ্ঠান করবে, টেলিভিশন সাংবাদিকতাও তেমন বড় ও বরণীয় হয়ে উঠবে। আর এই সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের কথা যত বলা হবে ততই আমাদের ভেতর দেশপ্রেম প্রোথিত হবে।


Milon Azad

২ মাস আগে

বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতা অত নিম্ন মানের কতগুলো বস্তাপঁচা টকশো চাটুকারিতা তোষামদিতা ছাড়া আর বিশেষ কিছু নাই। টেলিভিশন সাংবাদিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের জনগন কোন লাভবান হয়েছে এমন কোন নজীর নেই। তার পরিবর্তে টকশো ওয়ালারা অনেকে সরকারী পদ লাভ লাভ করেছে টিভি সাংবাদিকতা কিছু সাংবাদিক সুশীল চাটুকাররা বিভিন্ন সময়ে ফায়দা লুটেছে এর প্রমান গত ১৭ বছরের স্বর্ণ যুগ। আজও চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন