কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’সহ শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ে নেয়া হয়। বাদ আসর মিরসরাইয়ের মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ফজলুল হক, সিপিবি’র সাবেক সভাপতি শাহ আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাজার আগে ও পরে মরদেহবাহী এম্বুলেন্স ঘিরে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। জানাজায় অংশ নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে মারা যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ভুগছিলেন এবং কয়েকদিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে ছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
