যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুইদিনের সফরে বুধবার সন্ধ্যায় (১৩ই মে) চীনে পৌঁছেছেন। গত দশ বছরের মধ্যে এটি মার্কিন কোনো শীর্ষ নেতার চীন সফর। বিবিসি ও চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, এয়ারফোর্স ওয়ানে করে বেইজিং পৌঁছান ট্রাম্প। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন ছেলে এরিক ট্রাম্প, পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেক কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। ইতিমধ্যে এনভিডিয়া, অ্যাপল, টেসলা এবং বোয়িং-এর সিইও-রা চীনে পা রেখেছেন। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে এসে স্বাগত জানান। ট্রাম্পের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয়। ট্রাম্প যখন তার বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামেন সে সময় নীল ও সাদা ইউনিফর্ম পরা ৩০০ চীনা শিশু মার্কিন ও চীনা পতাকা উড়াচ্ছিল।
এ ছাড়া হান ও ট্রাম্প যখন একসঙ্গে লাল গালিচায় হাঁটছিলেন তখন শিশুরা ম্যান্ডারিন ভাষায় স্লোগান দিচ্ছিল, স্বাগতম, স্বাগতম, আন্তরিকভাবে স্বাগতম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, বুধবার বেইজিংয়ে ট্রাম্পের কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান নেই, তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিবেন।
যদিও ট্রাম্পের এই সফরটি গত মার্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে হামলা করায় সফরটি পিছিয়ে যায়।
বিবিসি বলছে, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তাইওয়ান ইস্যুও ট্রাম্পের এ সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিবিসি জানায়, ইরান যুদ্ধ এবং এর সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসতে পারে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্পের চীন সফরের আলোচ্যসূচি বেশ জটিল হবে। এক্ষেত্রে আলোচনা সফল না হলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ট্রাম্প এক দশক পর দ্বিতীয় দফায় যখন বেইজিং গেলেন তখন দেশটিতে অনেক কিছুই ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। চীন এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী এবং অনেক বেশি দৃঢ়চেতা। তৃতীয় মেয়াদের অনেকটা পথ পেরোনো চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতা শি তার দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। এর মাধ্যমে ‘নতুন উৎপাদন শক্তি’র পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ভবিষ্যতের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকট, নিজ দেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিসহ রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। তার রিপাবলিকান দলের অনেক নেতাই এখন ট্রাম্পের ওপর নাখোশ। ইতিমধ্যে তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তিনি সহ তার দলের নেতারা এমন পরিস্থিতিতে সামনের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে শঙ্কায় আছেন।
তাই ট্রাম্প এখন চীনের কাছ থেকে আরও মার্কিন খাদ্য ও বিমান কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি জয় চাইছেন। এ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদনে চীনের সাহায্য আশা করছেন ট্রাম্প।
অনেকের ধারণা, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝুলে থাকা চুক্তিটি চীনের সহযোগিতায় করা সম্ভব। সেটি সম্ভব হলে ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার শি জিনপিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন নেই।
বিবিসি বলেছে, ট্রাম্প এই সফরে এমন কিছু অর্জন নিয়ে দেশে ফিরতে চাচ্ছেন, যা প্রচার করে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। তবে চীন যে সহজেই ট্রাম্পের কথায় রাজি হবে তা আশা করাই ভুল।
