মোহামেডানের টানা চার জয়

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট ‘লীগ’ জমে উঠেছে। দিনের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে মাত্র ৮০ রানে গুটিয়ে দিয়ে দশ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে তারা। এটি সাদা-কালোদের টানা চতুর্থ দুর্দান্ত জয়।

অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড আট উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবও রানের পাহাড় গড়ে ১৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ২৬ রানে জিতেছে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা লেপার্ডস। আর লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৭৭ রানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

আবাহনীর দাপট অব্যাহত: দিনের অপর ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। আগে ব্যাট করতে নামা টাইগার্সরা ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে খুব সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছায় তারা। মাত্র ২৫ ওভার চার বলে দুই উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান তুলে নেয় আবাহনী। চার ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। ফলে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে শক্তিশালী দলটি। অন্যদিকে টানা চার ম্যাচ হেরে টাইগার্সদের অবস্থা বেশ শোচনীয়। পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে তারা।

প্রাইম ব্যাংকের রান উৎসব: শক্তিশালী প্রাইম ব্যাংক রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে গাজীকে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩০৩ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে প্রাইম ব্যাংক। দলের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। পাহাড়সম এই রান তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে যায় গাজীর ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা ইনিংস শেষ করে। ১৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জেতে ব্যাংক দলটি। চার ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় জয়। ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে এটি গাজীর দ্বিতীয় হার। চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে তারা।

ব্রাদার্সের স্বস্তির নিঃশ্বাস: বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে সিটিকে ২৬ রানে হারিয়েছে ব্রাদার্স। প্রথমে ব্যাট করে সিটি ২০৪ রানে অলআউট হয়। ব্রাদার্স বোলাররা চমৎকার বোলিং প্রদর্শন করেন। জবাবে ব্রাদার্স রান তাড়ায় নামতেই ম্যাচে বাগড়া দেয় বৃষ্টি। তখন তাদের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ১৫০ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে তাদের জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফলে ব্রাদার্স শিবিরে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। চার ম্যাচে এটি তাদের প্রথম জয়। দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের একাদশ স্থানে আছে। অন্যদিকে সিটির এটি দ্বিতীয় হার। চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে আছে তারা।

লেপার্ডসের সহজ শিকার: গুলশানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে অতি সহজ এক ম্যাচ বের করে এনেছে লেপার্ডস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুলশান খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। লেপার্ডস বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭৮ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লেপার্ডস খুব সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। চার ম্যাচে এটি লেপার্ডসের দ্বিতীয় জয়।

চার পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের নবম স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে সমান ম্যাচে গুলশানের এটি তৃতীয় হার। মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশম স্থানে অবস্থান করছে তারা। লেপার্ডসের দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে গেছে আরও বেশি।

অগ্রণীর দুর্দান্ত চমক

শক্তিশালী লিজেন্ডসকে ৭৭ রানে উড়িয়ে দিয়ে বিশাল অঘটনের জন্ম দিয়েছে অগ্রণী। প্রথমে ব্যাট করে ২৯৩ রান তোলে তারা। জবাবে লিজেন্ডস মাত্র ১৪৫ রান করতে সক্ষম হয়। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে অগ্রণী ব্যাংক দলটি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন