মালয়েশিয়ায় হত্যার শিকার প্রবাসী রবিনের মরদেহ দেশে

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার কুমিল্লার তিতাস উপজেলার প্রবাসী যুবক রবিউল হাসান রবিনের (৩৮) মরদেহ ৮ দিন পর নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। বুধবার বিকালে তিতাস উপজেলার কালাইগোবিন্দপুর গ্রামে লাশ এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কান্নার শব্দে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এদিকে কফিন খোলার পর দেখা যায় রবিনের লাশের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। পরে বাদ আসর কালাইগোবিন্দপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানা গেছে, গত সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা কোম্পানির নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কন্সট্রাকশন কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো সমস্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার বিকালে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ২০২৩ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানো রবিন সেখানে তার দক্ষতা দিয়ে দায়িত্ব পান ২ হাজার শ্রমিকের বেতন হিসাব রাখার। তার এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে সঙ্গে থাকা আরও দুই বাংলাদেশি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। সর্বশেষ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে রবিনের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহতের বড় ভাই খোকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। সব গুছিয়ে খুব শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল তার, কিন্তু ফিরলো নিথর দেহে। তার নাবালক দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই ভাবছি।” নিহতের ভাতিজা পাভেল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এবার কাকাকে বিমানবন্দর থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে বাড়ি নিয়ে আসার স্বপ্ন ছিল আমাদের।

কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। আজ আমরা কাকাকে জীবিত নয়, কফিনবন্দি অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে বাড়ি নিয়ে আসছি। কখনো কল্পনাও করিনি এভাবে কাকাকে রিসিভ করতে হবে। আল্লাহ যেন আমার কাকাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন