মৌলভীবাজারের সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ

মৌলভীবাজারের সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ

ফন্ট সাইজ:

সড়কের দু’পাশের আশীর্বাদের গাছগুলো বয়সের ভারে ন্যুজ্ব হয়ে এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুকনো ও মরা ডাল ভেঙে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে বাড়ছে আহত ও নিহতের পরিসংখ্যান। এখন এ সকল সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনাপ্রবণ গাছগুলো নিয়ে রয়েছেন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দু’পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন শত বছর বা অর্ধশতাধিক বছরের পুরানো মরা গাছগুলো এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সড়কে চলন্ত যানবাহনে হঠাৎ গাছ পড়ে প্রায় আড়াই বছরে অন্তত ৩ জন (বড়লেখায়-১, কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারে-১ ও শ্রীমঙ্গলে-১ জন) নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঝড়-তুফানের দিনগুলোতে প্রায়ই ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। বিদ্যুতের ১১ কেভির লাইন ছাড়াও বড় ও উঁচু মালবাহী গাড়ি নুয়ে পড়া গাছের জন্য চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাতে কিংবা দিনে সড়কে গাছ পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়েন সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও গাড়িচালকরা। হঠাৎ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় পড়ে যাত্রী ও যানবাহনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এমন একাধিক আহত, নিহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও সড়কের উপরে থাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও গাছের মরা ডাল কাটা বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ; বরং বনবিভাগের কাছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদনের চিঠি চালাচালিতেই বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

জেলার আইনশৃঙ্খলা মিটিং, উন্নয়ন মিটিং, দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে এ বিষয়ে কথা হলেও অনুমোদনের অজুহাতে দুই বিভাগের ঠেলাঠেলিতেই বছরের পর বছর পার হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং সময়ক্ষেপণে আরও ঝুঁকি বাড়ছেই। চরম ঝুঁকিতে থাকা এ সকল বনজ গাছ না কাটায় এই সড়কগুলো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে গাছ কাটার অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এমনটি জানাচ্ছেন এই বিভাগের বড় কর্তারা।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দু’পাশে থাকা কয়েক হাজার গাছের মধ্যে ৬৪৮টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা কাটার জন্য বনবিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়। গাছ কাটার অনুমোদন চাওয়া সড়ক নং এন-২০৭, সড়কের নাম-মিরপুর-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ২১২টি। সড়ক নং এন-২০৮, সড়কের নাম-মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ-সিলেট। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ৫৪টি। সড়ক নং আর-২৮১, সড়কের নাম-রাজনগর-কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা-বিয়ানীবাজার-শেওলা-চারখাই। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ১৬২টি। সড়ক নং আর-২৮২, সড়কের নাম-জুড়ী-লাঠিটিলা। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ৯৯ টি। সড়ক নং জেড-২০১৭, সড়কের নাম- মৌলভীবাজার (রাজনগর)-সিলেট (বালাগঞ্জ)। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ১৯টি। সড়ক নং জেড-২৮১৫, সড়কের নাম- বড়লেখা-শাহবাজপুর-লাতু। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ১৪টি। সড়ক নং জেড-২৮১৬, সড়কের নাম- শাহবাজপুর-দৌলতপুর। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত হয়েছে ৮টি। এ সকল গাছের মধ্যে বেশির ভাগই বয়স্ক রেইনট্রি গাছ। এ ছাড়াও এলজিইডির একাধিক সড়কে সামাজিক বনায়নের গাছও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ গাছে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের পরিসংখ্যান নেই এলজিডি জেলা কার্যালয়ে।

মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে এ সকল চরম ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দ্রুত কর্তন করে ফলজ গাছ লাগানোর দাবি এ সকল সড়কের উপকারভোগীদের। এ বিষয়ে এলজিইডি মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের বিভাগের জেলার প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ মানবজমিনকে জানান, সড়কে চলাচলকারী জনগণের জানমাল রক্ষায় তাদের দাবি ও বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা ওই সড়কগুলোতে দু’পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে বনবিভাগের কাছে তা কর্তনের জন্য লিখিত অনুমতি চেয়েছেন।

তাছাড়া জনদুর্ভোগের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক মিটিংয়েও উত্থাপন করা হলেও এখনো কোনো সুরাহা হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল মানবজমিনকে জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সকল সড়কে চলাচলে জনগণের জানমালের চরম ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে অবস্থা যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন