নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের নির্মম মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে মুগ্ধ তালুকদার নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।
বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার দুপুরে খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত মুগ্ধ জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে এবং ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, মুগ্ধর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন।
সে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। গত সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামান্য দুষ্টুমিকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ ক্ষিপ্ত হয়ে মুগ্ধকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ফ্রিজে রাখা বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মুগ্ধ। পরে মাথায় পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার পরও মুগ্ধকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাকে বলা হয়, বাড়িতে গিয়ে কাউকে কিছু বললে আবারো মারধর করা হবে এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া হবে। এ কারণে প্রথমে সে পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি। তবে রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায় মুগ্ধ। পরে মঙ্গলবার ভোরে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
পরিবারের দাবি, মারধরের পর মুগ্ধ কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছে, বমি করেছে এবং কান দিয়েও রক্ত বের হয়েছে।
মুগ্ধর খালা মুক্তা খান বলেন, ছোট শিশুরা দুষ্টুমি করতেই পারে। কিন্তু একজন শিক্ষক হয়ে এভাবে বরফ জমাট বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করা অমানবিক। মুগ্ধকে ভয় দেখানো হয়েছিল যেন সে বাড়িতে কিছু না বলে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আহত শিক্ষার্থীর মামা মারুফ খান বলেন, শুনেছি ওই শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। মুগ্ধকে মারধরের পর বাড়িতে কিছু না বলতে প্রধান শিক্ষকসহ ওই শিক্ষক কঠোরভাবে হুমকি দিয়েছিল।
সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মৌলা বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, বিষয়টি জানার পর পরই খালিয়াজুড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Bonggoj Bihinggo
২ মাস আগেঅবিলম্বে ঐ শিক্ষককে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করার দাবী জানাচ্ছি।