কালের কণ্ঠ
‘অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্বপ্নযাত্রা’-এটি দৈনিক কালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সামনে বাধার পাহাড়। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। বিনিয়োগে স্থবিরতা। একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ায় বাড়ছে বেকারের মিছিল।
লুটপাটে বিপন্ন ব্যাংক খাত। রপ্তানিতে ঝুঁকি। রাজস্বে বড় ঘাটতি। এ রকম নানা সমস্যা-সংকটের মধ্যেই জাতির আশার বাতিঘর হয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নযাত্রা শুরু করল তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার।
দায়িত্ব নিয়েই যে সরকারকে জিনিসপত্রের দাম সহনীয় রাখা, বিনিয়োগে আস্থার পরিবেশ তৈরি, ব্যবসায়ীদের মনোবল চাঙ্গা করা, হামলা-মামলা আর মব সন্ত্রাসকে শক্ত হাতে দমন করে নাগরিকদের জীবনে স্বস্তি ফেরানোর বিশাল চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে। অনিবার্য এই কঠিন বাস্তবতায় শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সংসদীয় সরকারের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও শপথের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে বিদায় নেয় দেড় বছরের আলোচিত-বিতর্কিত ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অনেকটা নির্বাসনেই ছিলেন। দেশে মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন যখন রাজনৈতিক হয়রানি আর মামলা, জেল-জরিমানায় বিপর্যস্ত, তখন তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটালেও ঠিকই দেশেও তাঁর বিরুদ্ধে সমানভাবে চলতে থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও জেল-জরিমানা। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতির সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়।
রাজনীতির প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠেন তারেক রহমান। ঘটনাপরম্পরায় দেশে ফেরেন তিনি। তারেক রহমানের এমন ফেরা জুলিয়াস সিজারের সেই উক্তিটি মনে করিয়ে দেয়—তারেক রহমান ‘ফিরে এলেন, দেখলেন, জয় করলেন’। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মাতৃহারা হন তারেক রহমান। মা খালেদা জিয়াকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নির্বাচনী মাঠে নামতে হয় তাঁকে। এরপর জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের সংসদীয় সরকারের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন। বলা যায়, চ্যালেঞ্জে জীবন কাটিয়ে আবারও চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দেশ গড়ার দায়িত্ব কাঁধে নিলেন।
বিশ্বেষকরা মনে করেন, তারেক রহমান অস্থির সময়ে দেশের দায়িত্বভার কাঁধে নিলেন। তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনমনে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। সেই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলার কাজটিও করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি আনতে হবে। সকল মত ও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্বেষকরা আশার কথাও বলেছেন। তাঁরা বলেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা থাকা জরুরি। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সিভিল সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ প্রিভিলেজের সমালোচনা করে আসছে, কারণ এটি একটি বিরাট বৈষম্য। ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট বরাদ্দ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব। জয় পাওয়ার পর গা ছাড়া মনোভাব বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতসহ প্রতিটি সেক্টেরই সমস্যা প্রকট। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে গেছে। বিগত সরকার (অন্তর্বর্তী সরকার) ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা টেনে তোলার চেষ্টা করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। তারা মূল্যস্ফীতি সহনীয় করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটিও এখনো লাগামহীন। তবে শেষ বেলায় একটি ভালো নির্বাচন দিয়ে যেতে পেরেছে বলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় চ্যালেঞ্জ আছে, যার কোনো অন্ত নেই। প্রথম কথা হলো, প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা। যে আমলাতন্ত্র আছে এখন, এই আমলাতন্ত্র দিয়ে প্রশাসন চলবে না। এই আমলাতন্ত্র বিভক্ত এবং দলীয় আনুগত্য পোষণকারী। এর জায়গায় সৎ, নিরপেক্ষ, যোগ্য আমলা দরকার; সে জন্য আমলাতন্ত্রের একটা বিরাট পরিবর্তন দরকার।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দুর্বল। তাদের মোরাল বলতে কিছু নাই, তারা নিজ উদ্যোগে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করে না। জুলাই অভ্যুত্থানে পালিয়ে গিয়ে আবার তারা কাজে ফিরে এলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকা উজ্জ্বল নয়। এখানে পরিবর্তন দরকার। বিচার বিভাগে পরিবর্তন দরকার। এগুলো রাষ্ট্রের হাত-পা; এগুলো ঠিকমতো কাজ না করলে বৈদেশিক সম্পর্ক বা আইন-শৃঙ্খলা—কোনোটাই ভালোভাবে চলবে না। সংস্কারের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং রিজার্ভের সংকট বড় চ্যালেঞ্জ।’
মাহবুব উল্লাহ আরো বলেন, ‘বহুবিধ অর্থনৈতিক সংকট আছে, যেগুলো মোকাবেলা করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বিশাল, যা প্রাপ্তির সঙ্গে না মিললে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এক্সপোর্ট না বাড়লে ফরেন রিজার্ভ উন্নত হবে না। বৈদেশিক ও দেশীয় ঋণের বোঝা এবং তার সুদ পরিশোধ করা দিনে দিনে অসম্ভব হয়ে উঠছে। এটি মোকাবেলায় রাজস্ব বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জিডিপি ও ট্যাক্স রেশিও এখন ৭ শতাংশের কোটায়, যা নেপালের চেয়েও খারাপ অবস্থা। মানুষকে কষ্ট না দিয়ে সৃজনশীলভাবে ট্যাক্স নেট বাড়ানো অর্থমন্ত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সার্ভিস ডেলিভারিতে সমস্যা আছে। সবচেয়ে বড় কথা, চৌকিদার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি ছেয়ে গেছে, যা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।’
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে খুবই সুন্দর একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় দক্ষ ও যোগ্যদের দেওয়া হচ্ছে। চলমান সংকট কাটিয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।’
গতকাল বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে সংসদের দক্ষিণ প্লাজার খোলা ময়দানে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গতকাল রাতে শেরেবাংলানগরে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর-উত্তম এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এবারের মন্ত্রিসভার বিশেষ দিক হলো, এখানে তরুণ-প্রবীণ ও দক্ষদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে খুবই সম্ভাবনাময় দক্ষ ব্যত্তিদেরও নির্মোহভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আশা করা যাচ্ছে, এই মন্ত্রিসভা যত চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, তা তারেক রহমানের পরিণত নেতৃত্বের গুণাবলিতে উতরে যাওয়া সম্ভব হবে।
প্রথম আলো
‘নতুন–পুরোনো মিলিয়ে বড় মন্ত্রিসভা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে নতুন যাত্রার সূচনা করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন—যেখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি দলের মধ্যম সারি ও নবীনদের বড় একটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনার এই যাত্রায় তিন প্রজন্মের নেতাদের মিশেলে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। অনেকে জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের সংখ্যাই বেশি। অনেকে বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি ভারী দায়িত্ব পেয়েছেন। আবার উৎসাহব্যঞ্জক নয়, এমন নামও মন্ত্রিসভায় আছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মন্ত্রিসভায় থাকাটা প্রত্যাশিত ছিল।
তবে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় নেই। এর মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি ও আবদুল মঈন খানকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করার বিষয় আলোচনায় আছে বলে শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে তাঁদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় ১০ উপদেষ্টা
মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমানসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তবে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রী পদমর্যাদায় বাকি উপদেষ্টারা হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাবেক সচিব মো. ইসমাঈল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান, মাহদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে। তাঁদের মধ্যে শামসুল ইসলাম বিএনপির চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। রেহান আসিফ আসাদ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ড. আসাদুজ্জামানের ছেলে। মাহদি আমিন বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ছিলেন। গত রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আলোচিত সংযোজন
নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন খলিলুর রহমান। তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো উপদেষ্টা পরবর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বে থাকেননি। খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর নিয়োগের সময় বিএনপির আপত্তি ছিল এবং তাঁর পদত্যাগও চেয়েছিল। কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন বৈঠকের পর পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। এর পর থেকে বিএনপির সঙ্গে খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে আলোচনা আছে। তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকারেও থাকতে পারেন বলে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচিত ছিল। এমন আলোচনার মধ্যে সদ্য গঠিত বিএনপির সরকারে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের নামসহ প্রচার করা হচ্ছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নযাত্রা’। খবরে বলা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা। যেন এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন। ১৭ বছরের নির্বাসন জীবন কাটিয়ে রাজধানীর পূর্বাচলের তিনশ ফিটের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি যখন বলেছিলেন-‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে), তখনই মানুষ বুঝে গিয়েছিল তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখা যায়। মানুষ তার দলকে উজাড় করে দিয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। মঙ্গলবার তারই আনুষ্ঠানিকতা হলো এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন। তার শপথের পর প্রথমে মন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথগ্রহণ করেন।
রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। যার মধ্যে ৪০ জনই নতুন মুখ। এতে স্থান পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতারাও। মিত্র দলের দুইজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পাহাড়সম অভিপ্রায় নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো।
সকালে জাতীয় সংসদে সংসদ-সদস্যরা শপথ নেন। শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করেন বিএনপি দলীয় সংসদ-সদস্যরা। এদিকে গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত করেন। অন্যদিকে আজ সচিবালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। অন্যদিকে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীয় কার্যালয়ও।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এদিন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকাল ৩টা ৫৮ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানায়। এর কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকাল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘শুরুতেই সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন’। খবরে বলা হয়, নতুন সরকারের যাত্রার প্রথম দিনই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। বিএনপি বলছে, সংবিধানে এখনও পরিষদের বিধান না থাকায় তারা শপথ নেয়নি। অন্যদিকে, বিরোধী জোট এই অবস্থানকে গণভোট ও জুলাই সনদের প্রতি অবজ্ঞা বলে আখ্যা দিয়েছে। এই জোট বলছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বাধ্যতামূলক।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে গণভোটের ব্যালটে বর্ণিত উপায়ে সংবিধান সংস্কারে নবনির্বাচিত এমপিরা ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
কিন্তু বিএনপির নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা গতকাল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। স্বতন্ত্র সাত এমপিও পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিপরীতে জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের ৭৮ এমপি পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। নতুন এমপিদের শপথ পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এদিকে, গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল হাইকোর্টে রিট হয়েছে। জামায়াতের একাধিক নেতার সন্দেহ, এতে বিএনপির হাত রয়েছে। ফলে আইনি পথেও বিরোধ তৈরি হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে।
বিএনপি শপথ নেয়নি
গতকাল দুটি শপথের জন্য প্রস্তুতি নেয় সংসদ সচিবালয়। তবে শপথের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলীয় এমপিদের উদ্দেশে বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। তাই পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছি না।
এমপিদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন বলেন, পরিষদ এখনও সংবিধানে ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে তা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পাঠ করাবেন, এই বিধান করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদে গৃহীত হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি এবং আশা করি, সামনের দিনেও চলব।
এমপিদের সাদা রঙের কাগজে সংসদের শপথপত্র দেওয়া হয়। নীল রঙের কাগজে দেওয়া হয় পরিষদের শপথপত্র। বিএনপির এমপিরা শপথ না নিয়ে নীল রঙের কাগজ চেয়ারে রেখে যান।
ইত্তেফাক
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ: শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তবে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিতরা ত্রয়োদশ সংসদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে শপথ কক্ষে পৃথকভাবে তাদেরকে শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জামায়াত-এনসিপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পৃথকভাবে এই দুটি শপথ পড়ান তিনি। দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সিইসি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করালেন। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর সিইসিকে নবনির্বাচিতদের এমপি হিসেবে শপথ পাঠ করানোর এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।
গতকাল দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের নবনির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। আর দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এর আগে সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ, তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। তবে, শেষ পর্যন্ত জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। একইভাবে এনসিপির পক্ষ থেকেও সকালে জানানো হয়েছিল, তাদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে, অবস্থান বদল করে জামায়াতের পরে তৃতীয় ধাপে শপথ গ্রহণ করেন এনসিপি থেকে নির্বাচিত ছয় জন।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠানে শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম।
শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে, সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে, কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে, তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে। তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে সহকর্মীদের জানান। শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘তারেক রহমান সরকারের যাত্রা শুরু’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো তারেক রহমানের নেতৃত্বে। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসজীবন ও রাজনৈতিক নির্বাসন কাটিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। তার এই উত্থান বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কাহিনী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত এক ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের পর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গভবনের প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে সংসদ প্রাঙ্গণে এই আয়োজন দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কূটনৈতিক উপস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বার্তা : শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ মোট ১৩টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতের পক্ষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। এই উপস্থিতি নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও স্থিতিশীলতার বার্তা বহন করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
শপথের মুহূর্ত : বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে সাদা জামা ও গাঢ় কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমান স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতির আগমন এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ৪টা ২৮ মিনিটে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
বণিক বার্তা
‘সংসদের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিএনপি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ১১ দলীয় জোটের’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। সংসদকেই সার্বভৌম হিসেবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি। সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু না থাকা এবং গণভোটের বিধান সংসদে পাস করানোর প্রক্রিয়াকে আমলে নিয়ে দলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি।
গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এটা এখনো ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেয়াবেন, সে বিধান করতে হবে।’
অন্যদিকে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে—উভয় শপথই নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিতরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা গতকাল সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন। সেই সঙ্গে বিএনপি জোটের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির একজন, গণসংহতি আন্দোলনের একজন, গণঅধিকার পরিষদের একজন শপথ নেন। শপথ শেষে রীতি অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
জাতীয় সংসদের সচিব কানিজ মওলা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংসদের সিনিয়র ইমাম কারি মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এবং আবু রায়হান তিলাওয়াত করেন। এ সময়ে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রে দেশ’। খবরে বলা হয়, দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে তারুণ্য, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মিশেলে মন্ত্রিসভার সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর দেশ ফিরল গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায়। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তারুণ্যের আধিক্যের এই মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোটের দুটি শরিক দলের দুই নেতাও রয়েছেন। আজ বুধবার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল। ১৯৯১ সাল থেকে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তারেক রহমানের মা প্রয়াত খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অপরজন শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে গেছেন। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। সংসদে এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সরকার গঠন করা ছিল সময়ের ব্যাপারমাত্র।
গতকাল তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই সরকার যাত্রা শুরু করল। রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীত এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠান। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনের এবং গোপনীয়তার শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। পরে শপথের নথিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর ২৫ জন মন্ত্রীকে পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। সবশেষে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে তাঁদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নথিতে সই করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন নবনির্বাচিত এমপিরা। প্রথমে বিএনপি জোটের এবং পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের এমপিরা শপথ নেন। সবশেষে শপথ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা। এই শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জামায়াত জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি জোটের কেউ এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা এই শপথ নেননি।
শপথ অনুষ্ঠানে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আসেন তারেক রহমান। শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আবরার, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সিইসি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ মাত্র আটজন প্রয়াত খালেদা জিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। বাকিদের মধ্যে নিতাই রায় চৌধুরী এরশাদ সরকারের শেষ সময়ে মন্ত্রী ছিলেন। তারেক রহমান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন। বাকি ৪০ জনও এবার প্রথম মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলেন।
মন্ত্রিসভার বড় চমক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমান। বিএনপি গত বছর তাঁর অপসারণও চেয়েছিল। পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক এই কর্মকর্তা এমপি না হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হয়েছেন। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হয়েছেন আরও দুজন। তাঁরা হলেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হক। আমিন উর রশিদ মন্ত্রী ও আমিনুল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন আমিনুল। তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
সহযোগীদের খবর
অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্বপ্নযাত্রা
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
৩ মাস আগে
১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ২০২৬, ৯ঃ০৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
