রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এদের মধ্যে দুইজন আপন ভাই এবং অপরজন তাদের ভগ্নিপতি। অভিযানের সময় ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর হামলা করলে আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালালে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. পলাশ সরকার ওরফে পলাশ (২৯), সাকিব সরকার ওরফে সাকিব (২০) এবং বিপ্লব হোসেন (৩১)। পলাশ ও সাকিবের বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার হেমাদিঘী টিএনটি মোল্লা গ্যারেজ এলাকায়। বিপ্লব তাদের ভগ্নিপতি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা শীর্ষ ছিনতাইকারী। মো. পলাশ সরকার ওরফে পলাশের বিরুদ্ধে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ধানমণ্ডি থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ধানমণ্ডি থানার একটি টহল টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, আসামিরা মোহাম্মদপুর থানাধীন টাউন হল এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ধানমণ্ডি ?ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের টহল টিম উক্ত স্থানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃত মো. পলাশ সরকার চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ধানমণ্ডি থানার এসআই মো. সাইফুল আলমকে আঘাত করে। আঘাতটি তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে লেগে গুরুতর জখম হয় এবং গ্রেপ্তারকৃত সাকিব সরকার ওরফে সাকিব চাপাতি দিয়ে এসআই সাইফুল আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দিলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সাকিবের বাম পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে গুলি লাগে। একই সময় পলাশ এসআই সাফায়েদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কিল-ঘুষি মারে। পরবর্তীতে ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, দুটি ছুরি, একটি ফোল্ডিং ছুরি, একটি খেলনা পিস্তলসহ বিভিন্ন মডেলের ৮টি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
