পটুয়াখালী লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী-এর প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিদ্যালয় জাতীয়করণের কথা বলে ১২ সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা জোরপূর্বক আদায়সহ বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়মের অভিযোগে তারা এই মানববন্ধন করে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পটুয়াখালী লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী-এর সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান, মো. লোকমান হোসেন, পারভীন সুলতানা, ফারজানা পলিন, বাসন্তি রানী দাস, মো. আমির হোসেন, সুলতানা আফিয়া আক্তার, সঙ্গীতা রানী দেবনাথ, মৌসুমি আক্তার মিতু।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে সেমিনারীর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষক গোপনে একতরফা ম্যানেজিং কমিটি করে প্রতিষ্ঠানে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানের ২০ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জন শিক্ষকের কাছ থেকে জাতীয়করণের কথা বলে ২০ লাখ টাকা জোর করে নেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক। কিন্তু আজ পর্যন্ত জাতীয়করণ করা হয়নি। আমরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয় তালবাহানা করে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী-১ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি ও জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে লতিফ মিউনিপ্যাল সেমিনারীর প্রধন শিক্ষক মো. জাকির হোসেন জানান, আমি কোনো টাকা নেইনি, সরকারিকরণের জন্য শিক্ষকরা মিটিং করে রেজুলেশন করেছেন। শুনেছি লতিফ সেমিনারী জাতীয়করণের জন্য টাকা লেনদেন করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক। আমি একটি টাকাও কারও কাছ থেকে গ্রহণ করিনি। তারা জেলা প্রশাসকের কাছে আমার ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তদন্ত চলছে।
