সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নার্সদের নাচ, সমালোচনার ঝড়

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভেতরে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশুদের রেখে হাসপাতালের প্রধান ফটকে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নার্সদের নাচের ঘটনায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন, সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার বিশ্ব নার্স দিবস উপলক্ষ্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ব্যান্ড পার্টির উচ্চ শব্দে ধামাইল গানের তালে নাচতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন নার্সকে। ঘটনাস্থলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল ৮৫ শিশু। হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় নার্সদের নাচ-গানকে ‘অমানবিক’ ও ‘অসংবেদনশীল’ বলে মন্তব্য করেছেন রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে হামে আক্রান্ত। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। নার্সদের ডাকলে রোগীর কাছে না গিয়ে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলে। আমরা সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি, আর তারা উচ্চ শব্দে গানের তালে নাচছে। আরেক রোগীর স্বজন আব্বাস মিয়া বলেন, তাদের দিবস, তারা পালন করতেই পারে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে, রোগীদের কষ্টের মধ্যে এভাবে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। চাইলে অন্য কোথাও করতে পারতো। আকলিমা নামের এক নারী বলেন, চারদিন ধরে আমার নাতনি অসুস্থ। ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না। হাসপাতালে কেউ কাঁদছে, আর কেউ নাচছে এ দৃশ্য খুব কষ্ট দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য খলিল রহমানও। তিনি বলেন, দিবস পালন করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায়, বিশেষ করে রোগীদের উপস্থিতিতে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নাচা মোটেও সমীচীন হয়নি।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আজ নার্স দিবস উপলক্ষ্যে আমি উদ্বোধন করে চলে আসি। পরে তারা র‌্যালি শেষে হাসপাতালের নিচে এমনটা করেছে। তারা আমাদের বলে এসব করেনি, এর আগে হাসপাতালে এমনটা হয়নি। তিনি বলেন, আজ হাসপাতালে ৮৫ জন হাম রোগী ভর্তি ছিল, তাদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, নার্স দিবস উদ্যাপন অবশ্যই করতে পারেন। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে করলে সবার জন্য ভালো হতো।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন