দেশজুড়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন কৃষক। চলতি বছরও বজ্রপাতে নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই মাঠে কাজ করা কৃষক। এ প্রেক্ষাপটে সোম ও মঙ্গলবার কৃষকদের জীবন রক্ষায় ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কৃষকদের জীবন রক্ষার কৌশলবিষয়ক সেশন পরিচালনা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএএফ)।
সংগঠনটির এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সাধারণত আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে এবং বৃষ্টি হলে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর ঠিক তখনই মাঠে কেটে রাখা ধান বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে কৃষকদের দ্রুত কাজ করতে হয়। অন্যের জমিতে কাজ করলে জমির মালিকও দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেন।
ফলে এ সময়ে কৃষকদের কাজের চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় তিন দফা নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত কৃষকদের মধ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বজ্রপাতে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এসএসটিএএফ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িতদের প্রতি নিচের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে
১. খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করা যাবে না।
২. বৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই গাছের নিচে অবস্থান করা যাবে না। বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকতে হবে। গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৩. বৃষ্টির মধ্যে খেলাধুলা থেকে বিরত থাকতে হবে। নদী, পুকুর, খাল-বিলের আশপাশে অবস্থান করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই খোলা মাটিতে শোয়া যাবে না।
এসএসটিএএফ-এর একাধিক প্রতিনিধি দল ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করেন। এ সময় কৃষকদের মধ্যে কোমল পানীয়, শরবত ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলিম, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা।
