তখন ঘড়ির কাঁটা সকাল সোয়া নয়টা। উপজেলা পরিষদের সীমানায় অনেকটা সুনসান নীরবতা। লোকজনের আনাগোনা নেই বললেই চলে। ধীর পায়ে ভবনের দুই তলায় ওঠার পর সাক্ষাৎ হয় তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে। কেউ অফিস ঝাড়ু দিচ্ছেন কেউ আবার ময়লা নিচে নামিয়ে ফেলছেন। দোতলায় মজিবর রহমান নামের একজন নিরাপত্তকর্মী কিচেন রুম গোছগাছ করছেন। উপজেলা নির্বাহীর কক্ষের পাশে নীরব মিয়া নামের একজন ছাড়া অন্য কক্ষের ডেস্কগুলোতে কারোই উপস্থিতি নেই।
কিচেন রুম থেকে বেরিয়ে এসে নিরাপত্তাকর্মী মজিবর রহমান জানালেন, ‘গতকাল অফিসে মন্ত্রী এসেছিলেন (প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম) এজন্য আজ একটু সবার আসতে দেরি হচ্ছে।’
ঘটনা বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশীর অভিযোগ ছিলÑশিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে সরকারের বেঁধে দেয়া অফিস টাইম মানে না বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার সকাল ঠিক ৯টা ১০ মিনিটে মানবজমিনের এই প্রতিবেদকসহ এনটিভি’র বগুড়া জেলা প্রতিনিধি আতিকুর রহমান সোহাগের উপস্থিতির এমন দৃশ্য চোখে ধরা পড়ে।
দ্বিতীয় তলার কক্ষ নং-২০৩ এ উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান হাবিব, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আছাব্বর আলী, ২০৪ নং কক্ষের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাসুদ রানা, ২০২ নং কক্ষের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ারুল ইসলাম, ২০১ কক্ষের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল করিমের নেমপ্লেট লাগানো। তাদের কক্ষগুলো খোলা, ডেস্কগুলোর চেয়ার ফাঁকা।
অফিসে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের রুমও ছিল ফাঁকা। তৃতীয় তলায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। সেখানেও সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছাড়া আর কারও দেখা মেলেনি। সকাল দশটার একটু আগে কয়েকজন অফিস সহকারীর দেখা পাওয়া যায়। তাদের কাছে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে নেই কেন? জানতে চাইলে তারা বলেন, স্যার ফিল্ডে গেছেন। ফিল্ড করে তারপর অফিসে আসবেন। তিনি কোথায় কোন ফিল্ডে গেছেন সেটা কেউ বলতে পারেননি। ওই সময় সকাল ১০ টা ১১ মিনিটে প্রকৌশলী সিহাদুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকালে বেশির ভাগ সময় অফিস করেন ভূমি অফিসে। তার বক্তব্য নেয়ার জন্য ভূমি অফিসে গিয়ে তার কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই উল্টো রাগান্বিত স্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন কেন আপনারা আমার অফিসে গিয়ে ভিডিও করলেন? আমার কর্মকর্তারা গতকাল রাত দশটায় বাসায় গেছে। এজন্য দেরি হতেই পারে। আমি সকাল থেকেই অফিস করি। আপনারা কেন আসছেন? আমাদের নামে নিউজ করবেন? উত্তেজিত অবস্থাতেই তিনি বললেন, আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। তিনি কক্সবাজারে গেছেন।
কিন্তু পরবর্তীতে আবারো উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম তার কক্ষে বসে আছেন। বিষয়টা নিয়ে কথা হয় বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, কে কতো রাত পর্যন্ত অফিস করেছেন সেটা দেখার বিষয় নয়। অফিসে সবাইকে যথাসময়ে আসতে হবে। অনিয়মকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
