বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চেরির সঙ্গে এক বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে আসন্ন সিরিজে দামি গাড়ি দেবে বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটারকে। চেরি ব্র্যান্ডের যে গাড়ির মূল্য আনুমানিক ৩০-৩৫ লাখ টাকা! বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল। সেই হারানো গৌরব দ্রুত পুনরুদ্ধারে এমন বাণিজ্যিক চুক্তি বিশাল ভূমিকা রাখবে। এই প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘চেরির মতো এত বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে গেল দুই বছরে বিসিবি’র সম্মানহানি হয়েছে, ওই জায়গা থেকে বের হয়ে চেরির মতো ব্র্যান্ডগুলো আসা শুরু করেছে।’ দীর্ঘ দুই দশক পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সেরার পুরস্কারে আস্ত গাড়ি আবার ফিরে এলো আমাদের দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বোর্ড পুনর্গঠনে নিজের বর্তমান ভূমিকার কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, মাঠে কোন এগারোজন খেলবেন বা কে কেমন ব্যাটিং করবেন, তা নির্ধারণ করা তার কাজ নয়। তার মূল লক্ষ্য হলো বোর্ডের হারানো সম্মান পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি আয় বৃদ্ধি করা এবং খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নিয়েও তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।
বিসিবি’র মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান সালমান ইস্পাহানির চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই তিনি স্পন্সর খোঁজার এই কাজগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করছেন। পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি জানান, অনেক আগে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের পর তার আপন বড় ভাই নাফিস ইকবাল এমন একটি গাড়ির চাবি পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবারো এমন উদ্যোগ নেয়ায় তিনি চেরির কর্তাব্যক্তি সুমনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ঘরোয়া লীগ বা আন্তর্জাতিক আসর, সবখানেই এমন বড় স্পন্সরদের উপস্থিতি আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন এই ড্যাশিং ওপেনার।
বোর্ডের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তামিম স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো বিসিবি কীভাবে সঠিকভাবে চলবে এবং ক্রিকেটারদের ফ্যাসিলিটিজ আমি কীভাবে বাড়াতে পারি তা নিশ্চিত করা।’ এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য তিনি এখন নিরলসভাবে কাজ করছেন। চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চেরির প্রতিনিধি সুমন জানান, শুধুমাত্র তামিমের ব্যক্তিগত আহ্বানের কারণেই তারা এত দ্রুত স্পন্সরশিপের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, আসন্ন সিরিজের জন্য তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি গাড়ি দিচ্ছেন শুধুমাত্র এই তারকার প্রতি বিশেষ সম্মান দেখিয়ে। তবে তামিম অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কৃতিত্ব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, স্পন্সররা তার ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, বরং বিসিবি’র ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণেই ক্রিকেটের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন।
