ফেনীতে মাকে কুপিয়ে হত্যা, আদালতে ছেলের স্বীকারোক্তি

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর দাগনভূঞায় ছুরিকাঘাতে মাকে হত্যা করা মোশারফ হোসেন রাফি (২২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে। মঙ্গলবার দেয়া জবানবন্দিতে রাফি বলে, পরিবারের ভালোবাসা ও স্বাভাবিক আচরণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই সে মাকে হত্যা করে। মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা থানার এসআই মো. মোতালেব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে রাফি দাবি করে, সে সিগারেট ছাড়া অন্য কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করতো না। তবে পরিবারের সদস্যরা সব সময় তাকে মাদকাসক্ত ও বখাটে বলে অবজ্ঞা করতো। এতে সে মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। রাফির ভাষ্যমতে, মা লাকি বেগম তার সঙ্গে আপন সন্তানের মতো আচরণ করতেন না। ঘটনার দিন রাতে কথা বলতে গেলে তাকে দূরে সরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে প্রথমে মাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে খাটের নিচে লুকানোর চেষ্টা করে। এ সময় বোন মিথিলা মোস্তফা সাহারা (১৮) দেখে ফেললে তাকেও ছুরিকাঘাত শুরু করে। এরপর বাবা মোস্তফা ভূঞা (৫০) এলে তাকেও ছুরিকাঘাতে আহত করে।

জবানবন্দিতে রাফি আরও জানায়, এর আগে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর পরিকল্পনা থেকে সে অনলাইনে দু’টি ছুরি অর্ডার করেছিল। গত শনিবার ছুরিগুলো হাতে পাওয়ার পর গত রোববার রাতে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এ হতাহতের কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় রাফিকে একমাত্র আসামি করে তার ফুফু শরীফা বেগম বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি রক্তমাখা ছুরি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাফি ঘটনার বর্ণনা এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন