পাথরঘাটায় জেলেকে নিজ বাড়ির উঠানেই পিটিয়ে হত্যা

পাথরঘাটায় জেলেকে নিজ বাড়ির উঠানেই পিটিয়ে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

বহুদিন ধরে চলছিল জমি নিয়ে বিরোধ। একাধিকবার সালিশেও অমীমাংসিত। কিন্তু শেষমেশ বিরোধীয় জমির উপর একটি নারিকেল গাছের ডাব সংগ্রহ করা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিবাদে প্রাণ গেল জেলে মো. আলম ফিটার (৫৫) নামে এক ব্যক্তির।

সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে রোববার বিকালে পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামে আলম ফিটারের বড়িতে তার নিজ উঠানেই দুই সন্তানের সামনে এ নির্মম ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘাতকরা পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলম ফিটারের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. ইলিয়াস, মো. আল আমিন, মো. বেলায়েত, মো. সাইফুলের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায় একাধিকবার সালিশও হয়। আলম ফিটার তার সীমানার ওপরে নারিকেল গাছের ডাব সংগ্রহ করে। এ খবর শুনে ইলিয়াস আলম ফিটারের বাড়িতে এসে তর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে আলম ফিটারের নিজ বসতবাড়ির উঠানেই লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

এ সময় তিনি মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা এসে প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে আলম ফিটার মারা যান।

আলম ফিটারের ছেলে ফোরকান জানান, আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা অপরাধীদের বিচার চাই। আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেই। সেই সুযোগে ইলিয়াসসহ তার সহযোগীরা বাবাকে মেরে ফেলেছে। আলম ফিটারের মেয়ে বলেন, আমি সন্তানের সামনে কি নির্মমভাবে পিটিয়ে বাবাকে হত্যা করলো।

আমরা এর বিচার কি পাবো? আমাদের সকল সম্পত্তির বিনিময় হলেও আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চাই। পাথরঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন