প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, দেশের ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখনো বন্ধ হয়নি, কিন্তু ধুঁকে ধুঁকে চলছে এমন কারখানাগুলোর জন্য সরকার প্রণোদনা দেবে। রপ্তানি বহুমুখী করতে ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে ব্যবসা ভালো করা সম্ভব। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ব্যবসার পরিবেশ ঘুরে দাঁড়ালেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে আবারো কিছুটা থমকে গেছে বলেও মন্তব্য করেন বিজিএমইএ সভাপতি। ঈদুল আজহাসহ সব সময়েই শ্রমিকদের পাওনা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে নীতি সহায়তা জরুরি বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে লিখিতভাবে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাব জমা দিলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আগামী ঈদুল আজহার পরে আবারো বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বন্ধ কারখানা চালু করার বিষয়ে সরকারের প্রতি সাধুবাদ জানাই। তবে ব্যাংকের অসহযোগিতায় অনেক চলমান কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। এজন্য রাজশাহীতে থাকা সরকারের রেশম শিল্প-কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেয়ার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ, বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা এবং শ্রম আইন সংসদে পাশের পূর্বে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)- এর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি এনবিআর ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত জটিলতাগুলো লিখিত আকারে জমা দেয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা জানান, বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে তহবিল গঠন করছে, সেই তহবিল থেকে স্ট্রাগলিং করা কারখানাগুলো এই সুবিধা পাবে। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, পূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার, সহ-সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারওয়ার সোহেল, সহ-সভাপতি মো. শামসুজ্জামান এবং ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
