টিসিবি’র আগের তালিকায় প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল: বাণিজ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

টিসিবি’র আগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন ঈদে টিসিবি’র বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবি’র ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবি’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্রেতাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যেন কার্যকর হতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ এবং টিসিবি’র সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবি’র মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।

এ দফায় সারা দেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ২১শে মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ব্যতীত) প্রতিদিন প্রতি ট্রাকে ৪০০ জন সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্যÑ ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। তবে এবার টিসিবি ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। আগে ট্রাকসেলে তেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, যা এখন ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এবার টিসিবি প্রতিদিন ঢাকা মহানগরে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরে ২০টি, অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬ জেলায় ১০টি করে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে। টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণে ৪০০ জন মানুষ পণ্য কিনতে পারবেন। এ সময়ে মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য বিক্রির কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। একেকজন ক্রেতা ট্রাকসেলের মাধ্যমে একসঙ্গে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন