মাদ্রাসাছাত্রের সঙ্গে শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

বগুড়ার ধুনট দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক আবাসিক ছাত্রের (১৪) সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্র বাদী হয়ে শিক্ষক আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। ওই ছাত্র সারিয়াকান্দি উপজেলার কাশাহাট গ্রামের বাসিন্দা। সে ধুনট দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার ইরাজদাহম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বাছেত ধুনট দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক। লেখাপড়ার কারণে শিক্ষক আব্দুল বাছেতের কক্ষে রাত যাপন করতো ভুক্তভোগী ওই ছাত্র। একই কক্ষে ঘুমানোর সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে রাত গভীর হলে ওই ছাত্রকে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন শিক্ষক আব্দুল বাছেত। ওই ছাত্র অনৈতিক কাজে রাজি না হলে আব্দুল বাছেত তাকে ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ ছাড়া এসব অনৈতিক কাজের কথা কাউকে না বলার জন্য ছাত্রদের চাপ দেন। ওই মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রের সঙ্গে তিনি একই আচরণে লিপ্ত হন।

এ ঘটনায় দুই মাস আগে ওই ছাত্র এ বিষয়টি নিয়ে আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে। ছাত্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে আব্দুল বাছেতকে মাদ্রসার আবাসিকের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তাকে দিনের বেলায় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর অনুমতি দেন। এ ঘটনায় শিক্ষক আব্দুল বাছেত ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগকারী ছাত্রদের ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। ফলে বাধ্য হয়ে ওই ছাত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক আব্দুল বাছেত বলেন, উপজেলা মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের সঙ্গে আমার বিরোধ চলে আসছে। তারাই ষড়যন্ত্র করে ওই ছাত্রকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।
ধুনট দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রকে দিয়ে শরীর টিপে নেয়ার কারণে আব্দুল বাছেতকে আবাসিকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সবাই বৈঠক করে এ বিষয়টি তখনই সমাধান করা হয়েছে। এখন আবার একটি পক্ষ এটিকে নতুন করে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রের অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন