মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চরে আবারো গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত যমুনা নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত দুই দফায় গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। আধিপত্যের লড়াইয়ে গত এক মাস আগে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন মিরাজ হোসেন (৪০) নামে একজন। ঘটনার এক মাস পেরোতে না পেরোতেই গত রোববার ভোরের দিকে যমুনার আলোকদিয়া খেয়াঘাটের ৭ নম্বর টাওয়ার এলাকায় ঘটে গেল আবারো কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা। তবে এ দফায় কেউ হতাহত হয়নি। বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এমন ঘটনায় চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শিবালয় থানার ওসি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষজন যাতে আতঙ্কিত না হন সেজন্য নৌপথে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত রোববার ভোর ৬টার দিকে তিনটি ইঞ্জিনচালিত কাটারে করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘটনাস্থলে আসে। তারা সেখানে অবস্থানরত ড্রেজিং শ্রমিক ও ইজারাদার পক্ষের লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। পরে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দিয়ে বলে, সকাল ৭টার মধ্যে সব গুটিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে। একইসঙ্গে তারা ঘোষণা দেয়, ফরিদপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যমুনায় শুধু ছাত্তার কমিশনারের নামেই ড্রেজিং চলবে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা উত্তর দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এলাকাবাসী জানান, যমুনা নদীতে তেওতা বালুমহাল থেকে পলি কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
এর আগেও একই এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ৩রা এপ্রিল আলোকদিয়া গ্রামের কাছে যমুনায় বালুমহালে নদীর বক্ষে বালু কাটার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ম্যানেজার মিরাজ হোসেন (৪০) নিহত হন। ওই ঘটনায় ইজারাদার কাওছার আলম ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ পটুয়াখালীর বাউফল থানা এলাকা থেকে রাসেল (২৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আলোকদিয়া চরের শোকুলিয়া গ্রামের নাজেরের ছেলে। এদিকে, বালুমহালের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম চাঁন বলেন, এবার চলতি বছর ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় তেওতা বালুমহালের ইজারা নিয়েছেন মেসার্স ইকরাম কনস্ট্রাকশন। গত রোববার সকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে আলোকদিয়া চরে এসে দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও একটি গুলি তাদের বাল্কহেডে লাগে। ওই সন্ত্রাসী গ্রুপ হুমকি দিয়ে যায় নদীর এই অঞ্চলে বালু উত্তোলন করলে অসুবিধা হবে। গুলি বর্ষণের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছিল। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয়া না হলেও পুলিশকে সব জানানো হয়েছে। শিবালয় থানার ওসি মনির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যমুনা নদীতে আলোকদিয়া চরে গুলি বর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও মানুষজনের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। নৌপথে টহল পুলিশ আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এদিকে, একের পর এক গুলি, হামলা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যমুনা পাড়ের চরাঞ্চলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় নদীতে সশস্ত্র তৎপরতা বাড়লেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের।
