পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের উপর ‘গভীর প্রভাব’ পড়েছে। এই কথার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের নাগরিকদের জীবনযাপনে সংযমের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোভিড সময়কার ওয়ার্কফ্রম হোম চালু করতে বলেছেন। বিদেশ ভ্রমণও কমিয়ে দিতে বলেছেন।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতীয়দের এক বছরের জন্য সোনা না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি এক বছরের জন্য বিয়েতে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এই আহ্বানে তিনি ক্রমবর্ধমান তেলের দাম এবং সোনার আমদানিকে রুপি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদনটি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে, যেখানে ভারতে সোনা ঐতিহ্য, সঞ্চয় এবং পারিবারিক উদ্যাপনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু এই বিবৃতির পেছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্বেগ বলে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের সময়ে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং রুপির দুর্বলতাই এই পদক্ষেপের অন্যতম কারণ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি এসেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ভারতের আমদানি ব্যয়কে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে ভারত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা না দিয়েই বারবার পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
আর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবহন, বিদ্যুৎ এবং শিল্প কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য তেলের বিপরীতে, সোনার আমদানিকে মূলত ঐচ্ছিক ব্যয় বা সঞ্চয়ের চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন কোনো বৈশ্বিক সংকটের সময় পরিবারগুলো বিপুল পরিমাণে আমদানি করা সোনা কেনে, তখন দেশ থেকে আরও বেশি ডলার বেরিয়ে যায়। এটি ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা আমদানি ও রপ্তানির মধ্যকার ব্যবধান পরিমাপ করে। ঘাটতি বাড়লে প্রায়শই রুপির মূল্য কমে যায়, কারণ দেশটি যা আয় করছে তারচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করছে। এ কারণেই সরকারগুলো প্রায়শই সোনার আমদানির বিষয়ে সতর্ক হয়ে ওঠে।
