রিয়ালকে সেই ‘আগুনে’ পুড়িয়ে লা লিগা শিরোপা বার্সার

রিয়ালকে সেই ‘আগুনে’ পুড়িয়ে লা লিগা শিরোপা বার্সার

ফন্ট সাইজ:

টানটান উত্তেজনার এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা ধরে রাখলো বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে রোববার কাতালানদের জয় ২-০ গোলে। এই জয়ের ফলে লীগের তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই ১৪ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো বার্সা। লা লিগার ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে এল ক্লাসিকোর ফলাফল সরাসরি শিরোপা নির্ধারণ করে দিলো।

আগের ঘটনাটি সুদীর্ঘ ৯৪ বছরের পুরনো। ১৯৩২ সালে এমন ঘটনায় শিরোপা ঘরে তুলেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
হাতে তিনটি করে ম্যাচ আছে বার্সা ও রিয়ালের। শীর্ষে থাকা কাতালানদের সঙ্গে দুইয়ে থাকা অল হোয়াইটদের ব্যবধান ১৪ পয়েন্টের। বার্সার সংগ্রহ ৩৫ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে রিয়ালের ৭৭। বার্সা বাকি তিন ম্যাচ হারের পর যদি রিয়াল নিজেদের সবগুলো ম্যাচ জেতে, তবুও তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরতে পারবে না।

ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে বাবার মৃত্যুর সংবাদ পান বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন এই জার্মান কোচ। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। ম্যাচের দুই গোলের নায়ক মার্কাস রাশফোর্ড ও ফেররান তোরেস দু’জনই গোলের পর ছুটে যান গুরুর কাছে। শিরোপা নিশ্চিতের পর আবেগী কণ্ঠে ফ্লিক বলেন, ‘এই দল এখন একটি পরিবার। সমর্থকদের সমর্থন ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না।’

রাশফোর্ড ও তোরেসের শুরুর দিকের দুই গোলই শিরোপা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল স্বাগতিকদের। এদিন চোটের কারণে শুধু লামিন ইয়ামালই নন, একাদশের বাইরে ছিলেন রাফিনহা ও জুলস কুন্দের মতো তারকারাও। তাতে অবশ্য ম্যাচজুড়ে দাপটের সঙ্গে খেলতে বার্সার কোনো অসুবিধা হয়নি। বিরতির পর জুড বেলিংহ্যামের করা একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয় রিয়ালের। অল হোয়াইটদের গোলপোস্টের নিচে থিবো কর্তোয়ার পাঁচ-পাঁচটি সেভ দেয়ার ব্যবধান আর বাড়েনি।

গত মৌসুমে জাভি হার্নান্দেজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ফ্লিকের অধীনে এটি বার্সার পঞ্চম শিরোপা। এ জয়ের মাধ্যমে বার্সা তাদের ২৯তম লীগ শিরোপা ঘরে তুলল। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় মৌসুম কোনো ট্রফি ছাড়াই কাটাতে হচ্ছে রিয়ালকে। মাঝপথে জাভি আলোনসোকে বরখাস্ত করে আলভারো আরবেলোয়াকে দায়িত্ব দিলেও ভাগ্য ফেরাতে পারেলো না লস ব্লাঙ্কোসরা।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান স্বপ্নভঙ্গ হয় বার্সার। তবে ঘরোয়া ফুটবলে তাদের আধিপত্য নিয়ে কোনো সন্দেহই আর থাকলো না। টানা ৫৫ ম্যাচে গোল করার অনন্য মাইলফলকও স্পর্শ করেছে দলটি।

এমন মুহূর্ত কখনো ভুলবেন না ফ্লিক
বাবার মৃত্যুর শোকের মধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে লা লিগা শিরোপা। এল ক্লাসিকোর ঠিক আগমুহূর্তে খবরটি পেয়ে ক্লাবকে বিষয়টি জানাবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান হান্সি ফ্লিক। ম্যাচের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বার্সা বস বলেন, ‘সকালে আমার মা আমাকে ফোন করে জানান যে বাবা মারা গেছেন। তখন আমি ভাবছিলাম, আমি কি এটি গোপন রাখবো, নাকি দলের সঙ্গে শেয়ার করবো? আমার কাছে এটি (বার্সা) একটি পরিবারের মতো। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে খেলোয়াড়দের জানাবো। আমি এই মুহূর্তটি কখনও ভুলবো না। দিনটি আমার জন্য কঠিন ছিল।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন