চলমান টেস্টে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির চরম ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো হলেও, নতুন বল মোকাবিলায় টপ অর্ডারের এই দশায় নিয়ে মোটেও বিচলিত নন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। মিরপুর টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের সংগ্রহ ৮ ও ৫ এবং সাদমান ইসলামের ১৩ ও ১০। গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের উদ্বোধনী ব্যাটারদের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক অতীত পরিসংখ্যান টেনে এই কোচ মনে করিয়ে দেন যে, আগের সিরিজেই উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ সাফল্য ছিল।
আশরাফুল বলেন, ‘গত টেস্ট সিরিজে আমাদের উদ্বোধনী জুটি অসাধারণ ছিল। সেখানে একশ রানের পার্টনারশিপ ছিল। জয় ও সাদমান দারুণ কিছু বড় ইনিংস খেলেছে। এখানে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামায় কঠিন কন্ডিশনে নতুন বল খেলা একদম সহজ ছিল না। দুই ইনিংসে রান না পেলেও আমি মোটেও চিন্তিত নই। আশা করি পরের ম্যাচেই তারা ফর্মে ফিরবে।’ অভিজ্ঞ এই কোচের মতে, মাত্র দুটি ইনিংসে রান না পাওয়ার কারণে উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। দলের অন্য ব্যাটাররা যথেষ্ট অভিজ্ঞ হওয়ায় পরিস্থিতি দারুণভাবে সামাল দিচ্ছেন বলেও তিনি বিশ্বাস করেন। আশরাফুল বলেন, ‘উইকেটে এখনো স্পিন ও পেস বোলারদের জন্য যথেষ্ট সাহায্য আছে। আমরা যদি ঠিকঠাক পঁচাত্তর ওভার বল করতে পারি, তবে দুইশো ষাট রানের মতো পুঁজি পেলেও আমাদের এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
ব্যাটারদের মন্থর স্ট্রাইক রেট নিয়ে চলমান সমালোচনারও কড়া জবাব দিয়েছেন এই ব্যাটিং কোচ। টেস্ট ক্রিকেটের চিরায়ত ব্যাকরণ মেনেই দল খেলছে বলে দাবি তার। কঠিন উইকেটে এমন সাবধানী ব্যাটিংই এখন সময়ের দাবি। স্ট্রাইক রেট প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে এভাবেই আসলে খেলতে হয়। চ্যালেঞ্জিং উইকেটে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ স্ট্রাইক রেট থাকাটা যথেষ্ট ভালো।’
এদিকে দলে পরিবর্তন আনা বা ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ থেকে নতুন কাউকে খেলানোর কোনো সম্ভাবনা তিনি একদম দেখছেন না। স্কোয়াডে থাকা পনেরো জনকেই দেশের সেরা ক্রিকেটার মানছেন তিনি। তাই এখনই উদ্বোধনী জুটিতে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী মোটেও নন আশরাফুল।
