মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের পিচ, ইট ও বালু উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। কোনো কোনো সড়ক একযুগেও মেরামত হয়নি। ফলে রাস্তায় যাতায়াতকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। যানবাহনে চলাচলে যেমন কষ্ট পেতে হয় তেমনি এসব সড়কে পায়ে হেঁটেও চলাচল কষ্টকর। শ্রমজীবী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী তথা সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোরা সড়কের মধ্যে রয়েছেÑ কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের লস্করপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, জনতা বাজার-চৌধুরী বাজার সড়ক, রাউৎগাঁও ইউনিয়নে চৌধুরী বাজার-কালিটি সড়ক, চৌধুরী বাজার-কৌলা সড়ক, চৌধুরী বাজার-পশ্চিম মুকুন্দপুর সড়ক, চৌধুরী বাজার-ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক, কুলাউড়া উপজেলা সদর-ফুলেরতল বাজার ভায়া নবাবগঞ্জ বাজার সড়কটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অন্যদিকে পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ পূর্ব রবির বাজার-কর্মধা ইউনিয়ন সড়ক, সদপাশা-ইটাহরি সড়ক, সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, রাজনগর বাজার-ছৈদল বাজার সড়ক, টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও-বাগৃহাল সড়ক, নওয়াবাজার-গুদামঘাট সড়ক, নওয়াবাজার-রবির বাজার সড়ক, টিলাগাঁও-গন্ডারগড়-তাজপুর সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ভাটেরা-সিংহনাথ সড়ক, ভাটেরা মাইজগাঁও-নওয়াগাঁও সড়ক, কাদিপুর ইউনিয়নে মনসুর-আমতৈল সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুর-শেরপুর লিংক সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ রোড-মিশন সড়ক, কুলাউড়া-মৌলভীবাজার রোড-সিরাজনগর বাগান সড়ক, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের আছুরিঘাট-দিলদারপুর, জয়পাশা-কামারকান্দি সড়ক খানাখন্দে ভরা। উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী হাজীপুর ইউনিয়নের মনু-তিলকপুর রোড-ভুইগাঁও পোস্ট অফিস সড়ক, কটারকোণা বাজার-হাসিমপুর সড়ক, কটারকোণা বাজার-মনু স্টেশন ভায়া হাজীপুর ইউপি অফিস সড়কসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক সড়ক চলাচলের প্রায় অনুপযোগী।
চালকদের অভিযোগ, ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিদিন বিকল হচ্ছে যন্ত্রাংশ। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল এসব সড়কে বেশি হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হন সিএনজি গাড়ির মালিক ও চালকরাই। সিএনজিচালক ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ২৩৫৯-এর কুলাউড়া-রাঙ্গিছড়া লাইনের সভাপতি আব্দুস শহীদ ও সম্পাদক শাহীন আলম মন্তর, ফয়ছল মিয়াসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিচ্ছি, কিন্তু সড়ক মেরামত হয় না। আয়ের সিংহভাগ টাকা যদি গাড়ি মেরামতেই চলে যায়, তবে পরিবার চালাবো কীভাবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙাচোরা রাস্তার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিগত কয়েক মাসে একাধিক মানববন্ধন কর্মসূচি ও প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়। তবে কর্তৃপক্ষ কার্যত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে কুলাউড়া সদর-নবাবগঞ্জ সড়ক, লস্করপুর-লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, চৌধুরী বাজার-কালিটি ও ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক, রবির বাজার-কর্মধা ও সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, নওয়াবাজার-রবির বাজার ও টিলাগাঁও-গণ্ডারগড় সড়ক ও ভাটেরা-সিংহনাথ ও মনসুর-আমতৈল সড়কের অবস্থা প্রায় যান চলাচলের অনুপযোগী।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমাদেরও কষ্ট দেয়। কুলাউড়া উপজেলার অনেকগুলো সড়ক মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৬টি সড়কের কাজ চলমান আছে। আগামী জুন মাস নাগাদ বাকি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
