বিভিন্ন সংস্থার হয়রানি বন্ধের দাবি রেস্তরাঁ মালিকদের

ফন্ট সাইজ:

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে রেস্তরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় করা, বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধ, গরুর মাংস আমদানির অনুমতিসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তরাঁ মালিক সমিতি। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তরাঁ খাত করোনার অভিঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে; যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তরাঁ খাতেও। তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে রেস্তরাঁয় ক্রমবর্ধমান খরচ বৃদ্ধি, কমে যাওয়া ক্রেতা উপস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেস্তরাঁ সেক্টর আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে, জনগণের রায়ে নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- রেস্তরাঁ সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় দেশের রেস্তরাঁ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- রেস্তরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন; আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো; এলপিজি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালু; বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা; রেস্তরাঁ সেক্টরে রাজউক, কলকারখানা, ফায়ার ও পরিবেশসহ সব অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ করা। এ ছাড়া রেস্তরাঁ সেক্টরে করপোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা; রেস্তরাঁ সেক্টরকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন; ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুনরায় চালু করা; রেস্তরাঁ সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা; গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেয়া এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেস্তরাঁ সেক্টরে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

ইমরান হাসান বলেন, একটি রেস্তরাঁ চালু করতে প্রায় ১০-১২টি সনদ প্রয়োজন হয়, যা পেতে ২ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগে, ফলে খরচ ও ভোগান্তি বাড়ে এবং খাতটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এসব সনদ প্রাপ্তি এবং নবায়নের সময়, সরকারি দপ্তরগুলোতে ভয়াবহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ পরিস্থিতিতে, রেস্তরাঁ সেক্টরের জন্য একটি সমন্বিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে মহাসচিব বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রেস্তরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫% থেকে ৫%-এ নামানো হলেও ১০% সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ অন্যান্য করের চাপে ব্যবসায়ীরা এখনো হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫% করার দাবি জানানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেস্তরাঁ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন