কুষ্টিয়ার মিরপুরে রবিউল ইসলাম (৩৩) নামের চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে বিএনপি ও জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পাঁচজনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকার রমজান আলীর ছেলে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে আট পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, রবিউল ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনার পর রাতেই বিএনপি নেতা ও জামায়াত নেতা পরিচয়ে পাঁচজন ব্যক্তি থানায় এসে আটক রবিউল ইসলামকে ছাড়ানোর জন্য তদবির শুরু করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা হেফাজতে নেয়।
থানা হেফাজতে নেয়া পাঁচজন হলো- সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক (৪৫), জামায়াত নেতা পরিচয়দানকারী এবং সদরপুর ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত মেম্বার প্রার্থী আলাউদ্দিন (৪৩), সুজন আলী (৩৩), শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং সাইদুল ইসলাম (৩৯)। এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মিরপুরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের এমন কঠোর ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। মিরপুর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী বলেন, এই ধরনের কাজ খুবই প্রশংসনীয়। মাদক নির্মূলে পুলিশের ভূমিকা এমন হওয়া উচিত। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেয়া ঠিক না।
মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে যারা থানায় গেছেন, তারা কোনো দলের হতে পারে না। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুরে মাদক ব্যবসা নির্মূলে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে। রবিউল ইসলাম নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর বিএনপি ও জামায়াত নেতা পরিচয়ে তদবির করতে এলে পাঁচজনকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
