খাগড়াছড়ির অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলায় একটি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। তারা পাহাড়িদের ভূমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে।
রোববার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় এ বিষয়ে অপপ্রচারকারীদের মিথ্যা তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
সরজমিন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কোনো মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে না। যেটি নির্মাণ হচ্ছে সেটি একটি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সে একটি ওয়াশব্লক, ফিডিং রুম এবং পর্যটকদের নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে। সে সঙ্গে কমপ্লেক্সের একটি অংশে থাকবে নামাজের ব্যবস্থা। আর এ জায়গাটি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণভুক্ত জায়গা।
কিন্তু বিষয়টিকে দুষ্কৃতকারীরা পাহাড়িদের ভূমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।
আলুটিলার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস আগে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে স্থানীয়দের কোনো আপত্তি নেই। শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে স্থানীয়রা নির্মাণ শ্রমিকদের সহযোগিতা করছেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কুকুনাথ ত্রিপুরা বলেন, ‘আলুটিলায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসেন। তাদের নামাজের ব্যবস্থা নাই। এখানে যদি মসজিদ হয় আমাদের কারও কোনো আপত্তি বা অসুবিধা নাই। আর যেটি হচ্ছে সেটি জেলা প্রশাসনের জায়গা-পর্যটনের জায়গা। কাউকে তো উচ্ছেদ করা হয়নি। যারা ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা এখানকার কেউ নয়।’ আরেক বাসিন্দা গীতা ত্রিপুরা বলেন, ‘আলুটিলায় মসজিদ হলে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পাহাড়িদের জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ’Ñ এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে। তবে তারা স্পষ্টভাবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আলুটিলায় বেড়াতে আসা পর্যটক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আলুটিলা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। আমরা দিনাজপুর থেকে ১৮ জন এসেছি। এখানে নামাজের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই মুসলিম পর্যটক। দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মসজিদ থাকলেও এখানে নেই। তাই আলুটিলায় একটি নামাজের উপযুক্ত স্থান বা জুমা মসজিদ থাকা প্রয়োজন।
আলুটিলা এলাকার কার্বারী সূর্য কিরণ ত্রিপুরা বলেন, ‘আলুটিলায় মসজিদ হচ্ছে বলে যারা ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা কেউ আমাদের এলাকার নয়। এরা উগ্র, এরা ঝামেলা বাধাতে চায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়। মসজিদ হলে পর্যটনের ভেতরে হবেÑ আমাদের আপত্তি কেন হবে?
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘বিষয়টি আমরা প্রথমে ফেসবুকে দেখি। যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আলুটিলা খাগড়াছড়ির প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। সে লক্ষ্যে পর্যটন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে একটি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ওয়াশব্লক, মায়েদের জন্য ফিডিং রুম, নানা সুযোগ-সুবিধা এবং নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। আমরা কাউকে উচ্ছেদ করিনি বা কারও ভূমি দখল করিনি। এটা পর্যটন কেন্দ্রেরই জায়গা।’ এ বিষয় নিয়ে গুজব প্রচার থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
