বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর-নসরতপুর ভায়া বিহিগ্রাম সড়কটির সংস্কারের কাজ ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই বছরেও শেষ হয়নি। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলে ১০ গ্রামের মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সেই সঙ্গে সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কার ও উভয় পাশে তিন ফুট করে মোট ছয় ফুট প্রশস্ত করার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কার ও সম্প্রসারণে প্রায় ১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি পায় খাগড়াছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড’। পরে প্রতিষ্ঠানটি বগুড়ার কাহালুর ঠিকাদার আজিজুল হক মিঠুনের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেয়। কাজ শুরু করার কথা ছিল ২০২৪ সালের মার্চে। মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের আগস্টে। কিন্তু এখনো সড়কটির প্রায় ২৫ ভাগ কাজ শেষ হয়নি।
জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেন। তবে অল্প কিছুদিন পরই কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর কয়েক দফা ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আবার কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজটি বর্তমানে করছেন বগুড়া শহরের ঠিকাদার বাদল সিদ্দিকী। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে ফিরে কথা বলবো।’
বিহিগ্রামের বাসিন্দা মহিবুল ইসলাম শাকিব নামের এক যুবক বলেন, সড়কের যে অংশে এখনো কাজ হয়নি সেই অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকাদারের অবহেলায় কয়েক বছর ধরে ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এই সড়কে বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ছোট ছোট কালভার্টগুলোর কাজও শেষ হয়নি। খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এসব দেখার কেউ নেই। বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া, হোসেন আকন্দ ও হামিদ আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, কাজে তিন নম্বর ইটের খোয়া ও পুরনো রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু বলেন, সড়কের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে অভিযোগ করেছি। তবুও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা বলেন, ১০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটারের কাজ হয়েই গেছে। ঠিকাদারের সমস্যা না হলে সড়কটি যথাসময়ে হয়ে যেতো। তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। কালভার্টগুলোর কাজও দ্রুতই করা হবে।
