পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গতকাল কলকাতার আইকনিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেন- তিনি। শপথ অনুষ্ঠানে গেরুয়া হাফ পাঞ্জাবিতে দেখা যায় তাকে। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুভেন্দুকে শপথ পড়ানোর আগে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গী ৯৮ বছরের মাখনলাল সরকারকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ভারতীয় সময় ঠিক সাড়ে এগারোটায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে শপথ নিতে আহ্বান জানান। শুভেন্দু বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। রাজ্যপাল আরএন রবি আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। এরপর শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন মোদি। তাকে আলিঙ্গন করে অভিবাদন জানান। শুভেন্দু ছাড়াও এদিন শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু। পরবর্তী সময়ে বাকি মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। তবে শপথ নেয়া মন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পাচ্ছেন তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
শপথ অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনেক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন- যোগী আদিত্যনাথ সহ বিজেপি শাসিত প্রায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ছিলেন বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ অন্য পদাধিকারীরাও। এছাড়াও অনুষ্ঠানে হাজির হন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক ছাড়াও বহু সাধারণ মানুষ এদিনের শপথ অনুষ্ঠানে উৎসাহের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন। গোটা ময়দানে ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ।
ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা পোক্ত করেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাস্ত করেছিলেন। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন তিনি। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন তিনি ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে। পাশাপাশি শুভেন্দু নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়েছেন।
গতকাল সকালে দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সভায় তিনি বলেছিলেন, শপথ অনুষ্ঠানে তাকে পশ্চিমবঙ্গে আসতেই হবে। সকাল ১০টা নাগাদ বায়ুসেনার বিমানে কলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্স মাঠে এসে নামেন। সেখান থেকে হুডখোলা গাড়িতে একপাশে শুভেন্দু অধিকারী অন্য পাশে রাজ্য বিজেপি’র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভামঞ্চে হাজির হয়েছিলেন।
রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু প্রথম সরকারি অনুষ্ঠানে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ীতে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে বলেন, বাংলা এবং বাঙালির সংস্কৃতি, কবিগুরুর ভাবনাতে, কবিগুরুর চেতনাতে শুভ সূচনা হলো সরকারের। একটাই মন্ত্র ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি’। তিনি আরও বলেন, বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে। আমরা বাংলাকে নবনির্মাণ করবো। অনেক দায়িত্ব। এখন একে- অপরের সমালোচনার সময় নেই।
শনিবার সকালে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শুভেন্দু। লিখেছেন, নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে তার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি, দর্শন এবং দেশপ্রেম আমাদের জীবনের পাথেয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে তিনি চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। তার মহান বাণী ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির’- আগামী দিনে মানবসভ্যতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাক। পশ্চিমবঙ্গে শনিবারই রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয়েছে। পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্যের সর্বত্র হয়েছে অনুষ্ঠান। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিনটি তার কালীঘাটের বাড়ির সামনে পালন করেন।

Syed Jahangir Kabir
২ মাস আগেআব্দুল জব্বার: বাংগালী কাউকে বেশিদিন সহ্য করতে পারে না।আর ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবল প্রতিরোধের মুখে কতকাল আর মমতা ব্যানার্জী টিকে থাকবেন!কাজেই সেখানে লড়াকু সুভেন্দু ইতো সুযোগ পাবেন।