মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখধাঁধানো সেঞ্চুরি এবং মমিনুল হকের লড়াকু ইনিংসে ভর করে টাইগাররা এক সময় শক্ত অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনটি বিষাদে রূপ নেয়।
গতকাল দিনের শেষভাগে টাইগারদের খেই হারানো বোলিংয়ে সেই স্বস্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। পেসারদের এলোমেলো লাইন ও লেন্থের সুযোগ নিয়ে সফরকারী ব্যাটাররা বিনা বাধায় দ্রুত রান তুলে নিজেদের দাপট দেখিয়েছে। উইকেটে ঘাস দেখে আমাদের পেসাররা অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই মূলত এমন বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্বাগতিক দল। দিনের খেলা শেষে দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে একটু এলোমেলো বল করে ফেলেছি। শুরুতে ঘাস দেখে পেসারদের খুব এক্সাইটেড হওয়ার একটা বড় চান্স থাকে। আমার মনে হয় ঠিক ওই জায়গাটাতেই আমরা সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছি। বোলারদের ভালো জায়গায় বল করাটা খুব বেশি জরুরি ছিল, সেখানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যদি আমরা ভালো চ্যানেলে বল করতাম।’
প্রথম দিন নাজমুল ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন। তৃতীয় উইকেটে মমিনুলের সঙ্গে ১৭০ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন তিনি। মমিনুল ৯১ রানে থামলে দীর্ঘশ্বাস আর আক্ষেপ জাগে গ্যালারিতে। মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহীম জন্মদিনেই ৭১ রান করে প্রতিরোধ গড়েন।
তবে মোহাম্মদ আব্বাসের তোপে দ্রুত উইকেট হারায় স্বাগতিকরা, তিনি ৫ উইকেট শিকার করেন। শাহীন শাহ আফ্রিদি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তুলে নেন মুশফিকের উইকেট। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ আব্বাসকে ছক্কা মেরে ১৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে স্কোর চারশো পার করেন। তবে এই সংগ্রহের তৃপ্তি পাননি অভিজ্ঞ কোচ সালাউদ্দিন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দিন শেষে আমরা তো ৪০০ রান ক্রস করছি। আমার মনে হয় যে আর ৫০-৬০ রান অতিরিক্ত করলে ভালো হতো। মুশফিক যদি আরেকটু লম্বা খেলতে পারত তবে হতাশ হওয়ার কিছু থাকতো না। আসলে আরেকটা ভালো পার্টনারশিপ হওয়া দরকার।’
জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে সফরকারী পাকিস্তান। স্বাগতিক বোলারদের ব্যর্থতার পাশাপাশি ফিল্ডারদের পিছুটান বাংলাদেশকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। স্লিপে ক্যাচ মিস, ফিল্ডিংয়ের এই চরম দৈন্যদশা দলের উপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করেছে। দ্রুত উইকেট তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হলেও হাফ চান্সগুলোও কাজে লাগানো যায়নি। এই দুর্বলতা স্বীকার করে নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘স্লিপ ক্যাচিং নিয়ে ইমপ্রুভমেন্ট দরকার। এটা স্পেশালাইজড জায়গা, কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়ে ভাবব। পাকিস্তান খুব ভালো বোলিং করছে। এরপর ব্যাটিংটাও বলবো তাদের ওপেনাররা ভালো ব্যাটিং করেছে। তারা আজ আমাদের চেয়ে বেটার ক্রিকেট খেলেছে।’
দলের একাদশে স্পিনারের অভাব নিয়েও মাঠে গুঞ্জন উঠেছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রয়েছে কোচের। পেসাররা দ্রুত ভুল শুধরে প্রবল বিক্রমে ঘুরে দাঁড়াবেন বলে বিশ্বাস তার। উইকেটে এখনো স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সুবিধা নেই বলেই তিনি মনে করেন। পরের দিনগুলো নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী সালাউদ্দিন বলেন, ‘টিমের স্ট্রেন্থ বুঝে আমাদের চলতে হয়। ব্যালেন্সটাও দেখতে হয়। খেলা এখনো তিন দিন বাকি আছে। এখানে স্পিনারদের খুব বেশি কিছু করার নাই। বল এখনো ঘুরতেছে না। এটা ফিক্স করা সম্ভব এবং তাড়াতাড়ি করতে হবে। ফাস্ট বোলাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে এবং তারা অভিজ্ঞ। আমি অত্যন্ত আশাবাদী তারা কাল আবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো পারফরম্যান্স করবে বলেই ভাবছি।’

Sakhawat
২ মাস আগেসালাউদ্দিন সাহেব, মনে হচ্ছে আপনি নিজেই এলোমেলো!
“এলোমেলো টাইগাররা” — সিরিজ চলাকালীন নিজ দলের সম্পর্কে কেউ এভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করে? আপনি কি জানেন, একজন কোচ হিসেবে আপনার দায়িত্ব কী? এই “এলোমেলো” অবস্থার দায় আসলে কার? আপনি যদি সেই দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করে এ কথা বলতেন, তাহলে বুঝতাম আপনি সত্যিই আদর্শবান।
যত্তসব ফাতরাদের কোচ বানায় বিসিবি!