ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার আতিথ্য নিতে আসছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। এই একটি ম্যাচেই নির্ধারিত হতে পারে স্প্যানিশ লা লিগার ভাগ্য। আজ নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি বার্সার সামনে। রিয়াল অবশ্যই চাইবে না তাদের চরম শত্রুর শিরোপা উৎসবে স্রেফ দর্শক হয়ে থাকতে।
অন্যদিকে, বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের সামনে এই শতাব্দীতে চতুর্থ কোচ হিসেবে দায়িত্বের প্রথম দুই মৌসুমেই টানা লীগ জয়ের কীর্তি গড়ার সুযোগ।
অল হোয়াইটদের হারিয়ে বা রুখে দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এল ক্লাসিকো জয়ের দিনই লীগ শিরোপা নিশ্চিত করতে চায় বার্সেলোনা। এর আগে ১৯৩২ সালে একবারই ক্লাসিকোর ফলের ভিত্তিতে শিরোপা নির্ধারিত হয়। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল। আজ আলভারো আরবেলোয়ার দলের লক্ষ্য তার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। বর্তমানে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা বার্সার জন্য সমীকরণ সহজ, স্রেফ হার এড়ালেই চলবে। ড্র করলেও চার ম্যাচ হাতে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগার মুকুট পড়বে তারা। বাস্তবতা হলো, রিয়ালের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা এখন অতি নগণ্য। অপ্টার পরিসংখ্যানবিদদের মতে, বার্সার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৮৭%, আর রিয়ালের মাত্র ০.১৩%। রিয়াল যদি তাদের বাকি সব ম্যাচও জেতে, তবুও বার্সার অবিশ্বাস্য এক পতনের শিকার হতে হবে। তবে সম্প্রতি বায়ার্ন মিউনিখ বা ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রিয়ালের বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা বার্সার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ফর্ম এবং থিবো কুর্তোয়ার অনুশীলনে ফেরা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে বার্সার আধিপত্যে কিছুটা ছেদ টানে রিয়াল। গত অক্টোবরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম দেখায় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। তখন কোচ ছিলেন জাবি আলোনসো। তবে পরবর্তীতে ফর্মের অবনতি এবং জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সার কাছে (৩-২) হারের পর আলোনসোকে বরখাস্ত করা হয়। পরে আরবেলোয়া দায়িত্ব নেন। গত প্রায় ১০০ বছরের লা লিগা ইতিহাসে দু’দলের শক্তিমত্তার ভারসাম্যে বারবার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ষাটের দশকে রিয়ালের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। সত্তর ও আশির দশকে ইয়োহান ক্রুইফের হাত ধরে এবং পরবর্তীতে পেপ গার্দিওলার অধীনে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে আনে কাতালানরা। গত মৌসুমে টানা চারটি ক্লাসিকো জিতে বার্সা (১০৫) এখন অল-টাইম হেড-টু-হেড রেকর্ডে রিয়ালকে (১০৬) ছুঁয়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে।
বার্সার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের চোট। হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে এ মৌসুমে তাকে আর দেখা যাবে না। রাফিনহা স্কোয়াডে ফিরলেও শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় আছে। ফ্লিকের হাতে বিকল্প হিসেবে আছেন মার্কাস রাশফোর্ড, ফেরমিন লোপেজ ও রুনি বার্দগি। অন্যদিকে, রিয়াল শিবিরে চলছে অস্থিরতা। অনুশীলন মাঠে অরেলিয়ে চুয়ামেনির সঙ্গে ঝগড়ার জেরে পাওয়া চোটের কারণে খেলতে পারবেন না ফেদেরিকো ভালভার্দে। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বাদ যেতে পারেন চুয়ামেনিও। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফেরা এমবাপ্পেকে নিয়ে আরবেলোয়া ঝুঁকি নেবেন হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এছাড়া এদের মিলিতাও, আর্দা গুলের, দানি কার্ভাহাল ও রদ্রিগো গোয়েজ আগে থেকেই মাঠের বাইরে।
