চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অপহৃত মিনিবাসের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মো. জুয়েল মিয়া। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ আনোয়ারা সদরের মো. জাহেদ (২৩), বরুমছড়ার মো. ইমন (১৯), বারখাইন তৈলারদ্বীপ এলাকার নুরুল কবির (৫৫) ও নুরুল মোমিন আরাফাত (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা শফিউল আলমের মালিকানাধীন একটি ‘হিউম্যান হলার’ মিনিবাস চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনীতে আসে। এ সময় কয়েকজন যুবক বরুমছড়া এলাকায় জরুরি রিজার্ভ ভাড়ার কথা বলে গাড়িটি ভাড়া নেয়। গাড়িটিতে চালক হিসেবে ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন দুই হেলপার। বরুমছড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালক ও হেলপারদের জিম্মি করে। পরে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়।
একইসঙ্গে মিনিবাসটি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আটক রাখা হয়। পরে চক্রের সদস্যরা গাড়ির মালিক শফিউল আলমের মোবাইলে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং সরকারহাট গরুর বাজার এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলে। ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। অভিযানে উত্তর বরুমছড়া জামিয়া নুরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথমে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মো. জাহেদ ও মো. ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরুমছড়ার মোহাম্মদ আলীর টেক এলাকা থেকে অপহৃত মিনিবাসসহ চালক ও হেলপারদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এদিকে শুক্রবার গভীর রাতে আবারো অভিযান চালিয়ে তৈলারদ্বীপ এলাকা থেকে চক্রের আরও দুই সদস্য নুরুল কবির ও নুরুল মোমিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র ও সহিংসতার একাধিক মামলা রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
