যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে টাস্কফোর্সের অভিযানে হামলা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত টাস্কফোর্স অভিযানে মোবাইল কোর্ট টিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অতর্কিত হামলায় স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজারবাহী নৌকাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। গত শুক্রবার মধ্যরাতে যাদুকাটা নদীর ছত্রিশ গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়- গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের চলমান টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হানের নেতৃত্বে যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ছত্রিশ গ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুইটি স্টিলবডি নৌকা ও তিনটি ড্রেজারবাহী কাঠের নৌকা শনাক্ত করা হয়। এ সময় মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে জব্দকৃত নৌকা ও ড্রেজার নিয়ে আসার জন্য নৌ-পুলিশকে মাঝি সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হলে মোবাইল কোর্ট টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকশ’ মানুষ নদীর তীরে জড়ো হয়ে মোবাইল কোর্ট টিমকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এতে স্পিডবোটের চালক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট টিমসহ সেখান থেকে পিছু হটেন। পরবর্তীতে নৌ-পুলিশ ও বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পুনরায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজারবাহী নৌকা জব্দ করা হয় এবং বাল্কহেড নৌকার এক মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত কয়েকজনের নামও সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে- এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজমুল ইসলাম বলেন- রাতে আমরা নদীর অন্য একটি সাইটে ডিউটিতে ছিলাম। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাল্কহেড নৌকাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন