চলতি মৌসুমের ‘ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (এফডব্লিউএ) বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পুনরুত্থানের নায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ । ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আর্সেনালের ডেকলান রাইস ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং ব্রুট হালান্দকে পেছনে ফেলে এই মর্যাদাপূর্ণ খেতাবটি নিজের করে নিলেন পর্তুগিজ তারকা। ২০১০-এ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনির পর প্রথম রেড ডেভিল খেলোয়াড় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন ব্রুনো।
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে রেড ডেভিলদের সাম্প্রতিক সাফল্যে এক অনবদ্য নাম ব্রুনো। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৪ ম্যাচে তার নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ৮ গোল এবং চোখধাঁধানো ১৯টি অ্যাসিস্ট। আর একটি অ্যাসিস্ট করলেই থিয়েরি অরি (২০০২-০৩) ও কেভিন ডি ব্রুইনার (২০১৯-২০) ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। অথচ গত মৌসুম শেষেও ক্লাবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল গভীর সংশয়। সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলালের বিশাল অর্থের হাতছানি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই আনুগত্য ও ত্যাগের প্রতিদান এবার পেলেন মাঠের পারফরম্যান্সে। বর্তমানে প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ফেরার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে ইউনাইটেড, যার মূল কারিগর এই পর্তুগিজ তারকা। বর্ষসেরার শীর্ষ তালিকায় আর্সেনালের বুকায়ো সাকা, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস এবং গোলকিপার ডেভিড রায়া থাকলেও ইউনাইটেডের অন্য কোনো খেলোয়াড় ভোট পাননি।
ক্লাব মালিক স্যার জিম র্যা টক্লিফ যখন ক্লাবের খরচ কমাতে মরিয়া, তখন ব্রুনোর এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ব্রুনোকে নতুন চুক্তির দাবিদার করে তুলেছে। তবে ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা জাগিয়ে তিনি ফুটবলার জানিয়েছেন, আগামী বিশ্বকাপের আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনায় বসবেন না তিনি। ১৯৪৮-এ স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের হাত ধরে শুরু হওয়া এ পুরস্কারের ইতিহাসে দশম ইউনাইটেড খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন ব্রুনো। ববি চার্লটন, এরিক ক্যান্টোনা, রয় কিন ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের পাশে এখন থেকে উচ্চারিত হবে তার নামও।
