মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ঘিরে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৪ ও ১৫ মে চীন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। তার সফরের আগে বেইজিং জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ জোরদার, সহযোগিতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে কাজ করতে প্রস্তুত। চীনের শীর্ষ নেতারা বেইজিংয়ে সফররত মার্কিন সিনেটরদের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়াং বলেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট শি ও তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোনালাপে যে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়, তা বাস্তবায়নে চীন প্রস্তুত। তিনি বলেন, এই ঐকমত্য দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সিনেটর স্টিভ ডেইনসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে লি জোর দিয়ে বলেন, যোগাযোগ বাড়াতে হবে, সব পর্যায়ে বিনিময়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং বিভিন্ন খাতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ফল অর্জন করতে হবে।
লি বলেন, চীন দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক শক্তি যোগ করতে চায়। অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও উভয়পক্ষের লাভজনক সহযোগিতাই বড় শক্তিগুলোর জন্য সঠিক পথ। তিনি ওয়াশিংটনকে একই পথে হাঁটার আহ্বান জানান। তার মতে, মুখোমুখি সংঘাত ও শূন্য-সম প্রতিযোগিতার বদলে সংলাপ ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লি বলেন, এটি চীনের মূল স্বার্থ এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি লাল রেখা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন কংগ্রেস চীন সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকবে এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইও একই ধরনের বার্তা দেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর এটি প্রথম কোনো দ্বিদলীয় সিনেট প্রতিনিধিদলের চীন সফর। ওয়াং বলেন, দুই দেশের স্থিতিশীল সহাবস্থানের চাবিকাঠি হলো তারা একে অপরকে কীভাবে দেখে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিসঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ, চীনের মূল স্বার্থকে সম্মান এবং মতপার্থক্য গঠনমূলকভাবে ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানান।
