আক্ষেপ নেই মুমিনুলের তবে আছে বউয়ের ভয়

আক্ষেপ নেই মুমিনুলের তবে আছে বউয়ের ভয়

ফন্ট সাইজ:

দুই ওপেনার হতাশ করে ফিরেছেন সাজঘরে। সেই সময় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে আরও একবার দলের ত্রাতা হলেন- মুমিনুল হক সৌরভ। দেশের সেরা টেস্ট ব্যাটারের তকমা লাগা মুমিনুলের কাছে যেমনটা আশা ছিল তাই পূরণ করলেন। যদিও ৯০-এর ঘরে গিয়ে হলো না ব্যক্তিগত অর্জন। নিজের ইনিংসকে নিতে পারলেন না তিন অঙ্কে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো আউট হলেন নার্ভাস নাইনটিজে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে টেনে তুললেন। মিরপুর টেস্টে প্রথম দিনে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থাকতে আক্ষেপের এক সমাপ্তি ঘটে তার এই অসাধারণ লড়াইয়ের। স্পিনার নোমান আলীর সোজা ডেলিভারিটি প্যাডে আঘাত হানলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ’র সিদ্ধান্ত জানান। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

দুইশ’ বল মোকাবিলা করে দশটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারির সাহায্যে ৯১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার এই বিদায়ে ভাঙে মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে গড়া গুরুত্বপূর্ণ জুটি। মাইলফলক ছুঁতে না পারার আক্ষেপ না থাকলেও নিজের সেরাটা দিয়ে দলের হাল ধরার তৃপ্তি তাকে মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে। এমন চাপের মুখে বুক চিতিয়ে লড়াই করাতেই প্রমাণিত হয় তিনি কেন দেশের অন্যতম সেরা টেস্ট স্পেশালিস্ট। তিনি বলেন, ‘না, আক্ষেপ হয় না। তবে আজকে সামান্য আক্ষেপ হয়েছিল কারণ হয়তো বাসায় ফেরার পর বউ গালি দিতে পারে (স্ত্রীর কাছে বকা খেতে হতে পারে)। তবে সত্যি বলতে, আমার কাছে ১০০ করার চেয়ে প্রতিদিন দলের জন্য রান করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ৭৬ ম্যাচের দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে মুমিনুল এ নিয়ে মাত্র একবারই ‘নার্ভাস নাইনটিজ’-এর নির্মম শিকার হয়েছেন। স্পিনারদের বিপক্ষে তার ধ্রুপদী ফুটওয়ার্ক বেশ প্রশংসনীয় হলেও, গতকালের ম্যাচে বলের লাইন ঠিকমতো বুঝতে না পারায় এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়েন। এর ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ টেবিলের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েও তাকে ফিরতে হয় নীরব এক হতাশা নিয়ে। টেস্ট ক্যারিয়ারে চাপের মুখেও মুমিনুল সবসময় দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দাপটের সঙ্গে। তার সবশেষ টেস্ট সেঞ্চুরিটির দিকে তাকালেই সেই মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে তিনি খেলেছিলেন ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। ভারতের বিশ্বমানের স্পিনারদের সামলে সেদিন তিনি একাই লড়েছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকার যে মানসিকতা তিনি সেদিন দেখিয়েছিলেন, গতকাল মিরপুরেও ঠিক একই প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে। নিজের সহজাত ধৈর্য আর নিখুঁত টাইমিংয়ের ওপর ভর করে তিনি দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। তার এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং কেবল ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়ার জন্যই ছিল না, বরং দলের সম্মান বাঁচানোর এক নিরলস সংগ্রাম ছিল। তার সঙ্গে অধিনায়কের দারুণ প্রশংসাও করেন তিনি। শান্তকে নিয়ে মুমিনুল বলেন, আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন অন্য প্রান্তে বড় খেলোয়াড়দের ব্যাটিং উপভোগ করতাম। আমার চোখে দেখা শান্তর এই ইনিংসটি তার জীবনের অন্যতম সেরা ইনিংস।

ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে মুমিনুল বরাবরই নিজেকে প্রমাণ করে এসেছেন। সবশেষ ভারতের বিপক্ষে ২০২৪ এ ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর তার ব্যাটে আসে আরও পাঁচটি ফিফটি, এমনকি আশির ঘরেও ইনিংস আছে দু’টি আর গতকালের ৯১ ইনিংস মিলিয়ে তার সেঞ্চুরির আক্ষেপটা লম্বা হচ্ছে দিন দিন। নিজের সেঞ্চুরি নিয়ে বলেন, ‘সেঞ্চুরি আসলে সবাই চায়। আমি বর্তমানে নিজের ব্যাটিং উপভোগ করার চেষ্টা করছি এবং অতিরিক্ত চিন্তা না করে স্বাভাবিক পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলছি। আমার লক্ষ্য থাকে নিজের প্রক্রিয়ায় স্থির থাকা।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন