কিংস অ্যারেনায় নাটকীয়তায় ভরা বসুন্ধরা কিংস ও বাংলাদেশ পুলিশের ম্যাচে কেউ জিতেনি। এক ঘণ্টা ১২ মিনিট বন্ধ থাকার পর পুনরায় মাঠে গড়ানো ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। কিংসের ড্র’র দিনে পিডব্লিউডিকে ২-০ গোলে হারিয়ে লীগ শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুলেছে ঢাকা আবাহনী। ফকিরেরপুলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেই লড়াইয়ে ফিরেছে ফর্টিস এফসিও। ১৬তম রাউন্ড শেষে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে আছে বসুন্ধরা কিংস। সমান ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আবাহনী আর ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ফর্টিস এফসি। এবারের মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের একমাত্র হারটি ছিল পুলিশ এফসি’র বিপক্ষে। তাদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখালেও গোলের দেখা পেতে কিংসকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৫ মিনিট পর্যন্ত।
ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস বাড়ান উইঙ্গার রাকিব। সেখান থেকে কিংসের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ডোরিয়েল্টন গোমেজ নিখুঁত হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ৫৩ মিনিটে স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১। পুলিশ ফ্রি-কিক পায়, তা থেকে জয়ন্ত বল নামিয়ে দেন বক্সে। কিংসের ডিফেন্ডার সাদ বল ক্লিয়ার করতে না পারলে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার পাওলো সান্তোস জটলার মধ্যে বাঁ পায়ের শটে গোল করে সমতা ফেরান। তবে সেই পাওলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন কিছুক্ষণ পরই। ৬৩ মিনিটে পুলিশের বিদেশি খেলোয়াড় বদল নিয়ে জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ। পাওলো লাল কার্ড দেখার পর পুলিশ এফসি আরেক ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানিলোকে নামায়।
এতে আপত্তি করে কিংস। কারণ নিয়ম হলো কোনো দলের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ তিনজন বিদেশি ফুটবলার খেলতে পারবেন। পুলিশ তিনজন বিদেশি নিয়ে শুরুতেই মাঠে নামে। একজন বিদেশি লাল কার্ড দেখার পর স্থানীয় একজন খেলোয়াড়ের বদলে আরেকজন বিদেশি নামানো নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। এই অচলাবস্থায় খেলা ৭২ মিনিট বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত দানিলোকে তুলে নেয় পুলিশ, এরপর শুরু হয় খেলা। ১০ জনের পুলিশের বিপক্ষে ৭১ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন কিংসের ডিফেন্ডার রিমন হোসেন। ম্যাচে তখন দু’দলেরই ১০ জন খেলোয়াড়। বাকি সময়টা ১০ বনাম ১০ লড়াই হলেও আর কোনো গোল হয়নি।
ওমর বাবুর হ্যাটট্রিকে ফর্টিসের গোল উৎসব
মানিকগঞ্জের মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে ফকিরেরপুল ইয়াংম্যান্সের বিপক্ষে গোল উৎসব করেছে ফর্টিস এফসি। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ফর্টিসের হয়ে গোলের খাতা খুলেন পা ওমর বাবু। গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফকিরেরপুল। ১৯তম মিনিটে প্রণয় মারান্ডির ক্রসে ডি-বক্সের বাহিরে থেকে দলটির হয়ে সমতাসূচক গোল করেন বেন ওয়াত্তারা। বিরতির আগে দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ওমর বাবু। এটি এবারের আসরে ফর্টিস অধিনায়কের প্রথম হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারালো হয়ে ওঠে ফর্টিসের আক্রমণভাগ। ৪৮ মিনিটে নেপালের অনন্ত তামাং, ৫৫ মিনিটে এবং ৬৭ মিনিটে ওকাফোর দুই গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-১। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৮৮ মিনিটে ওমর বাবু নিজের চতুর্থ এবং দলের সপ্তম গোলটি পূর্ণ করলে ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় ফর্টিসের।
আশা জিইয়ে রাখলো আবাহনী
দিনের অন্য ম্যাচে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের আশা টিকিয়ে রাখে আবাহনী লিমিটেড। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মিরাজুল ইসলামের পাস থেকে গোল করে আবাহনীকে লিড এনে দেন সুলেমান দিয়াবাতে। এটি এবারের লীগে মালির ফরোয়ার্ডের দশম গোল। ৮২ মিনিটে কাজেম শাহ কিরমানির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ধানমণ্ডির ক্লাবটির। এই গোলে সহায়তা করেন ওগবুগ।
