ফুটবল পঞ্জিকার পাতায় আজ এক বিশেষ দিন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০০তম বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে লিভারপুল ও চেলসি। অ্যানফিল্ডে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে আজ বিকাল সাড়ে ৫টায়।
অপ্টা সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, আজকের ম্যাচে লিভারপুলের জয়ের সম্ভাবনা ৫২.৫%, যেখানে চেলসির জন্য বরাদ্দ মাত্র ২৫.৭%। যদিও লিভারপুল তাদের শেষ দু’টি লীগ ম্যাচে চেলসির কাছে হার দেখেছে, যা তাদের আগের ২০টি লড়াইয়ের মোট হারের সমান। তবে চেলসির বর্তমান ফর্ম রীতিমতো উদ্বেগজনক। প্রিমিয়ার লীগে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরেছে তারা। আজ হারলে ১৯৫২ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা সাত ম্যাচ হারের লজ্জায় পড়বে লন্ডনের ক্লাবটি।
১৯০৭ সালের বড়দিনে এই অ্যানফিল্ডেই চেলসি ৪-১ গোলে লিভারপুলকে বিধ্বস্ত করে, যা আজও তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় জয়। তবে বর্তমানের চিত্রপট ভিন্ন। পয়েন্ট টেবিলের চারে থাকা লিভারপুল (৫৮ পয়েন্ট) চ্যাম্পিয়ন্স লীগের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। অন্যদিকে, নবম স্থানে থাকা ব্লুরা (৪৮ পয়েন্ট) ধুঁকছে এক চরম অনিশ্চয়তায়। গত সপ্তাহে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৩-২ গোলে হারটা তীরের কাছে এসে তরী ডোবার মতোই পোড়ায় অলরেড কোচ আর্নে স্লটকে। বেনিয়ামিন সেসকোর হ্যান্ডবল বিতর্ক নিয়ে ডাচ্ কোচ যতই ক্ষোভ ঝাড়ুন না কেন, পরিসংখ্যানে লিভারপুল ছিল ম্লান। তবে ঘরের মাঠে লিভারপুল বরাবরই ভয়ঙ্কর। গত চার ম্যাচে অ্যানফিল্ডে ১০ পয়েন্ট পকেটে পুরেছে তারা।
আজ লিভারপুল জিতলে এবং বোর্নমাউথ পয়েন্ট হারলেই আগামী চ্যাম্পিয়ন্স লীগের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের। চেলসির কোচ ক্যালাম ম্যাকফার্লেনের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। চোটের মিছিলে যোগ দিয়েছেন উঠতি তারকা জেসি ডেরি এবং গোলকিপার রবার্ট সানচেজ। এমনকি ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হয়ে ডোপিং নিষেধাজ্ঞায় থাকা মুদ্রিকের অভাবও বোধ করছে ব্লুরা।
পরিসংখ্যান বলছে, চেলসি গত ১০টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে অ্যানফিল্ডে জিততে পেরেছে। তবে ফুটবল তথা যেকোনো খেলার আগের পরিসংখ্যান শুধু আত্মতৃপ্তির জন্যই। গত বছর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দুবারই লিভারপুলকে হারায় চেলসি। তবে আজ ব্লুদের লড়াইটা নিজেদের ইতিহাসের কলঙ্ক মুছে দেয়ার। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের টিকিট নিশ্চিত করে তবেই অ্যানফিল্ড ছাড়তে চাইবে লিভারপুল।
